‘প্রধানমন্ত্রী উপ-নির্বাচনের নির্দেশ দিন’, তীব্র কটাক্ষ মমতার

mamata-and-modi.jpg

Onlooker desk: রাজ্যে শীঘ্রই উপ-নির্বাচন চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং সে প্রসঙ্গ টেনে বুধবার আরও একবার বিঁধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। তাঁর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেই নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীকেই অনুরোধ করব উপ-নির্বাচনের নির্দেশ দিন।’
মমতা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, উপ-নির্বাচনের নির্দেশ দিন। কোভিড কমে এসেছে। উপ-নির্বাচন সাতদিনের মধ্যে নেওয়া যায়। আমি শুনেছি, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে নির্বাচন কমিশন উদ্যোগী হবে।’ আজ, বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর প্রশ্ন, ‘কীসের জন্য দেরি? কোভিড পজিটিভিটি রেট যখন ৩০ শতাংশ ছিল, বাংলায় তখন নির্বাচন হয়েছে। এখন তা কমে ৩ শতাংশ বা তারও নীচে।’ মার্চ-এপ্রিল জুড়ে দেশে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে। তখনই ক্রমশ মাথাচাড়া দিচ্ছিল দ্বিতীয় ঢেউ। সেই সূত্রে পজিটিভিটি হারের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনকে নাম না করে বেঁধেন মমতা।
বস্তুত, বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শানিয়েছে তৃণমূল। আট দফা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যসচিব তথা রাজ্যের বর্তমান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার ফের চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্র। তা নিয়েও আজ, বুধবার তোপ দেগেছেন মমতা। এমনিতেই কোভিড-সহ নানা ইস্যুতে বিজেপির জনসমর্থনে ভাটা। ‘মোদী-ম্যাজিক’ আগেই উধাও হয়েছে। সম্প্রতি মোদীর জনপ্রিয়তাও আর আগের মতো নেই। ২০২৪-এ বিজেপিকে হটাতে মরিয়া বিরোধীরা। সে দিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, ‘২০২৪ এ ওরা (বিজেপি) ক্ষমতায় না-ও থাকতে পারে।’
গত মাসে কলাইকুন্ডায় মোদীর বৈঠকে মমতা ও আলাপন উপস্থিত না-থাকায় বিতর্ক বাধে। তার জেরে আলাপনকে দিল্লিতে বদলি করা হয়। কিন্তু তিনি বদলি ও চাকরির এক্সটেনশন কোনওটিই না নিয়ে অবসর গ্রহণ করেন। সেটা গত ৩১ মে। সম্প্রতি কেন্দ্র ফের একটি চিঠি দিয়েছে আলাপনকে। ৩০ দিনের মধ্যে অনুপস্থিতির জবাব না-দিলে ‘কঠোর শাস্তিমূল ব্যবস্থা’র কথা জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মমতা আজ বলেন, ‘ওই অবসরপ্রাপ্ত আমলা চিঠির প্রেক্ষিতে নিজের ইচ্ছেমতো পদক্ষেপ করতে পারেন। রাজ্য তাঁকে পুরোপুরি সহযোগিতা করবে।’ এই সূত্রে আলাপনের ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ওই অবসরপ্রাপ্ত আমলা ২০ দিনের ব্যবধানে ভাই, ভাগ্নে ও মাকে হারিয়েছেন।
মমতার সংযোজন, ‘ওরা (বিজেপির সরকার) আইন মানছে না। কেবল পেশিশক্তির আস্ফালন করছে। দেশটা বিজপির একার নয়। বেশিরভাগ রাজ্যই বিরোধীরা চালায়।’ এর পরেই মমতা বলেন, ‘আজ ওরা সরকারে আছে। ২০২৪-এ না-ও থাকতে পারে।’
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে লড়তে পারে। কঠিন টক্করে পশ্চিমবঙ্গে জয় ছিনিয়ে আনার পর সেই বিরোধিতার মুখ হতে পারেন মমতা। জল্পনা তেমনই। যদিও মমতা নিজে এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top