২১-এর মঞ্চে মমতার মুখে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’, জাতীয় স্তরে ‘বাংলা মডেল’ তুলে ধরার বার্তা

21-july-mamata-banerjee.jpg

কলকাতা: গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে বিপুল ভোটে পরাজিত করার পর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। কারণ ভোটের মোদী-শাহ বাংলায় কার্যত প্রতিদিনই যাতায়াত করেছেন। তার পরেও বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তৃতীয়বার সরকার গঠন করায় দেশে বিজেপি বিরোধী অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন মমতা। এ বার ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া’র ডাক দিলেন তিনি। পাশাপাশি মোদীর গুজরাট মডেলকে টেক্কা দিতে ‘বাংলা মডেল’ তুলে ধরার কথা বললেন তৃণমূল নেত্রী।
মমতা যখন শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে এই ডাক দিচ্ছেন তখন দিল্লিতে তাঁর ভাষণ শুনতে হাজির হয়েছেন একাধিক বিরোধী নেতা। এমনিতেই এবার ২১ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভা বিভিন্ন রাজ্যে শোনানোর উদ্যোগ নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই মতো তৃণমূল নেত্রীর বার্তা শোনাতে দিল্লির কনস্টিটিউশন হলে লাগানো হয়েছিল জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, দিগ্বিজয় সিং, সমাজবাদি পার্টির নেত্রী জয়া বচ্চন, এনএসপি প্রধান শরদ পওয়ার, রামগোপাল যাদব, তেলঙ্গনা রাষ্ট্র সমিতির কেশব রাও, সঞ্জয় সিং, শিব সেনার প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী, অকালি দলের বলবিন্দর সিং ভাণ্ডারি। বুধবারের মঞ্চে এই উপস্থিতি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী ঐক্যের ছবি উঠে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিন মমতার ভাষণে বার বার উঠে এসেছে বিরোধী ঐক্য এবং দিল্লি দখলের ডাক। এমনকী তাঁর দিল্লি সফরের মধ্যে কোনও মিটিং ডাকা হলে তাতে তিনি অংশ নেওয়ার কথাও জানান। মমতা বলেন, ’২৬, ২৭, ২৮ তারিখ আমি দিল্লিতে থাকছি। পারলে ওই সময় মিটিং ডাকুন। কারণ এখন আর বেশি সময় নেই। রোগীর মৃত্যুর পর ডাক্তার এলে কোনও লাভ হয় না। তাই এখনই সবাই নিজের দলকে বোঝান। সকলে মিলে আমরা ইউনাইটেড ইন্ডিয়া করতে চাই।’
এদিকে গুজরাটকে মডেল হিসাবে তুলে ধরে সমগ্র দেশে বিকাশের কথা বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এ বার তারই পাল্টা হিসেবে বাংলাকে মডেল হিসেবে তুলে ধরার বার্তা দেন মমতা। সেক্ষেত্রে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী, খাদ্যসাথী, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষক বন্ধু, ফসল বিমা থেকে শুরু করে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, সমব্যাথী-সহ নানা প্রকল্পে সাফল্যের কথা বলেছেন তিনি। এবং বাংলার এই সাফল্যই দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর স্পষ্ট ইঙ্গিত, ভাষণ দিয়ে নয়, কাজের মাধ্যমেই বিজেপি বিরোধী সরকার গড়তে চান তিনি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘মহব্বত কাম সে হোতা হ্যায় মোদিজি, মন কি বাত সে নেহি।’
এদিনের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রীর বার্তার পর বিরোধী ঐক্য গড়ে বিজেপি বিরোধী সরকার গঠন করতে পারেন কি না, সে দিকেই তাকিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top