‘চোখে ন্যাবা হলে কী করব!’ ধনখড়কে কটাক্ষ মমতার

images-1-1.jpeg

কলকাতা: রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের আচরণের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার দিল্লি সফরে গিয়েছেন রাজ্যপাল। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্দেশে লিখেছিলেন একটি চিঠি। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা প্রসঙ্গে ওই চিঠি লেখেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন মমতার ‘নীরবতা’ নিয়ে। স্বভাবসিদ্ধ ভাবে টুইটে তা প্রকাশও করেন ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)। এ নিয়ে তোপের মুখে পড়েন। তৃণমূল ও রাজ্য প্রশাসন কড়া প্রতিক্রিয়া দেয়। পাশাপাশি মুখ খুলেছিলেন বাম নেতা বিমান বসুও। মমতা অবশ্য এ নিয়ে মন্তব্য এড়িয়েই ছিলেন। অবশেষে ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মমতা (Mamata Banerjee) ।
এ দিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে রাজ্যপালের আচরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। নাম না-করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কারও চোখে ন্যাবা হলে কী করা যাবে! কারও নাম করছি না। তা ছাড়া, বাচ্চা হলে তা-ও বকে চুপ করানো যায়!’
এর পরে সাংবাদিকদেরই পাল্টা প্রশ্ন করেন মমতা (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, ‘রাজ্যপাল নির্বাচনোত্তর হিংসার কথা বলছেন বটে। কিন্তু আপনারা তো স্থানীয় সাংবাদিক, আপনাদের কি কিছু চোখে পড়ছে? তা আপনাদের যদি চোখে না-পড়ে, তা হলে হিংসা কোথায়? আসলে রাজ্যে নির্বাচনের সময় কিছু ঘটনা ঘটেছিল। তখন দায়িত্বে ছিল নির্বাচন কমিশন। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা, অধিকাংশই রাজনৈতিক কারণে নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে অশান্তি। নির্বাচনের পর কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই এই নিয়ে কিছু বলব না।’ প্রসঙ্গত, নির্বাচন পরবর্তী হিংসা নিয়ে মামলা চলছে আদালতে।
এই ইস্যুতে মমতা ‘অপ্রত্যাশিত বন্ধু’ হিসাবে পাশে পেয়েছেন বামেদের। রাজ্যপালের এমন আচরণ শোভা পায় কি না, বুধবার সে প্রশ্ন তোলেন বিমান। তাঁর মতে, ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) বিজেপি নেতাদের মতো আচরণ করছেন। তবে কেবল রাজ্যপাল নন। বিজেপি নেতারাও ধনখড়ের (Jagdeep Dhankhar) প্রতিটি আচরণে পাশে দাঁড়ান। তাতে বিতর্ক আরও বাড়ে। যেমন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, ‘রাজ্যপাল এখন ওদের গলার কাঁটা! রাজ্যপাল রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। তিনি যেতেই পারেন দিল্লিতে। উনি যেহেতু সন্ত্রাসের কথা বলছেন, তাই ওঁকে পছন্দ হচ্ছে না।’ যদিও প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায় আগেই অন্য কথা বলেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যপাল সংবিধান মানছেন না। বিমানের মন্তব্য প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার মমতা বলেন, ‘সবাই যখন বলছেন, তখন আমি আর আলাদা করে কী বলব। সবার কথাই আমার কথা।’
এ দিকে, রাজভবনে নিয়মবহির্ভূত ভাবে অফিসার নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ধনখড়কে (Jagdeep Dhankhar) বিঁধে সম্প্রতি একাধিক টুইট করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এ নিয়েও মমতাকে (Mamata Banerjee) এ দিন প্রশ্ন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রাজভবন তো শুধু কলকাতায় নয়, দার্জিলিং-এও আছে। দিল্লিতেও তো যাওয়া-আসার প্রচুর খরচ। যাই হোক, এগুলো নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে তার পর জানাব। আগে খোঁজ নিই।’ আরও বলেন, ‘এটাই বলব, তুমি অধম বলিয়া, আমি উত্তম হইব না কেন?’ ধনখড়কে রাজ্যপাল পদ থেকে সরানোর দাবিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তিনটি চিঠি দিয়েছেন মমতা। সে কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘কোনও উত্তর আসেনি। উনি তো ওদেরই লোক।’ মনে করা হচ্ছে, ঘুরিয়ে তিনি বিমানের কথাতেই কার্যত সিলমোহর দিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top