মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়নের বিকল্প পদ্ধতি ঘোষিত, কোন পথে রেজাল্ট?

Madhyamik-HS-evaluation-process.jpg
কলকাতা: জানানো হলো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন পদ্ধতি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ফল বেরোবে জুলাই মাসের মধ্যে।
মাধ্যমিকের মূল্যায়ন হবে নবম এবং দশম শ্রেণির ফলের ভিত্তিতে। নবম শ্রেণির মার্কশিট এবং দশম শ্রেণির ইন্টারনাল পরীক্ষার ফল, এই দুই পরীক্ষার ফলাফলকে গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে।
আজ, শুক্রবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক ছিল। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কর্তারা ওই বৈঠক করেন। সেখানেই মাধ্যমিকের বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি ঘোষণা করা হয়।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানিয়েছে, কোনও পরীক্ষার্থী এই পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট হলে পরীক্ষায় বসতে পারবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষার আয়োজন করা হবে।
ঠিক কী ভাবে মাধ্যমিকের ফল তৈরি হবে? সিদ্ধান্ত হয়েছে, নবম শ্রেণির পরীক্ষার ফল থেকে ৫০ শতাংশ নেওয়া হবে। বাকি ৫০ শতাংশ নেওয়া হবে দশম শ্রেণির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন থেকে।
অন্যদিকে উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়নে বিবেচিত হবে মাধ্যমিকের নম্বরও। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এ কথা জানান।
দেখা হবে, ২০১৯-এর মাধ্যমিকে সবচেয়ে বেশি পাওয়া চারটি বিষয়ের নম্বর। তাতে থাকবে ৪০ শতাংশ। ২০২০-র একাদশ শ্রেণির বার্ষিকে লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরে থাকবে ৬০ শতাংশ।
৬০ শতাংএই ফর্মুলায় উচ্চমাধ্যমিকের মূল্যায়ন হবে। এ ক্ষেত্রেও মূল্যায়নে সন্তুষ্ট না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে পড়ুয়াদের। সে ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
করোনা পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বাতিল হয়েছে। কিন্তু এই পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কোন পথে হবে? এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পরীক্ষার ব্যাপারে সুপারিশ করতে ৬ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে রাজ্য।
পাশাপাশি পরীক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের মত চাওয়া হয়। মত জানানোর জন্য তিনটি ইমেল আইডি দেওয়া হয়। ৭৯ শতাংশই মাধ্যমিকের বিপক্ষে মত দেন। উচ্চ মাধ্যমিকের বিপক্ষে যায় ৮৩ শতাংশের মত।
বিশেষজ্ঞ কমিটিও পরীক্ষার পক্ষে মত দেয়নি। রিপোর্ট এবং জনমতের ভিত্তিতে শেষমেশ মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
প্রসঙ্গত, আইএসসি কাউন্সিল ও সিবিএসই বোর্ডও পরীক্ষা বাতিল করেছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে রিপোর্ট দিয়েছে সিবিএসই। তারা জানিয়েছে, দ্বাদশের মূল্যায়ন হবে দশম, একাদশ ও দ্বাদশের ভিত্তিতে। আইসিএসই কাউন্সিল এখনও পদ্ধতি জানায়নি।
অন্য অনেক রাজ্যও বাতিল করেছে পরীক্ষা। করোনায় নিরাপত্তাতেই জোর দিচ্ছে সকলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top