ভুয়ো টিকা: সিট গড়ল লালবাজার, সিবিআই তদন্তের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা

Polish_20210625_231726545.jpg

কলকাতা: ভুয়ো টিকা কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আবেদনে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হলো কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। অভিযুক্ত দেবাঞ্জন দেবের (Debanjan Deb) বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন সন্দীপন দাস নামে এক আইনজীবী। আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনানির জন্য উঠতে পারে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার তদন্তে সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে লালবাজার। ডেপুটি কমিশনার এবং গোয়েন্দা বিভাগ শুক্রবার এই সিট গঠন করে। এই ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের কোনও ব্যাপার আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সিট।
গত বুধবার ভুয়ো টিকাকরণের বিষয়টি সামনে আসে। সাংসদ মিমি চক্রবর্তী (Mimi Chakraborty) টিকাকরণ শিবির নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কী টিকা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন ছিল তাঁর। এর ভিত্তিতে দেবাঞ্জন দেব নামে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিভিন্ন সময়ে কলকাতা পুরসভার নাম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে দেবাঞ্জনের বিরুদ্ধে। এমনকী পুরসভার জয়েন্ট কমিশনার হিসাবেও নিজেকে পরিচয় দিয়েছে সে। তার উপরে তৃণমূলের বহু নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে তার ছবি সামনে এসেছে। যার জেরে কিঞ্চিৎ অস্বস্তিতে শাসকদল।
এ বছর ফেব্রুয়ারিতে মধ্য কলকাতায় একটি লাইব্রেরি উদ্বোধন হয়। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি আবক্ষ মূর্তি রয়েছে। ওই মূর্তির নীচে নামের ফলকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, অতীন ঘোষ, তাপস রায়, ফিরহাদ হাকিমদের নামের সঙ্গে ছিল দেবাঞ্জনের নাম। সেই বিষয়টি সামনে আসতেই অবশ্য ওই ফলক ভেঙে দেওয়া হয়।
তবে শাসকদলের নেতানেত্রীরা তার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি।
দেবাঞ্জনের সঙ্গে শাসকদলের নেতা-মন্ত্রীদের যোগাযোগের অভিযোগ তোলে তারা। যথাযথ তদন্তেরও দাবি জানায়। মামলা করবে বলে জানায়। তারই মধ্যে শুক্রবার এই কাণ্ডে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন হাইকোর্টের আইনজীবী সন্দীপন।
দেবাঞ্জন কলকাতার হাজার দুয়েক মানুষকে ভুয়ো ভ্যাকসিন (Fake Vaccine) দিয়েছে বলে অভিযোগ। টিকার বদলে একটি অ্যান্টি-বায়োটিক ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুলিশ। এর পিছনে কে বা কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেবাঞ্জন আবার ‘আরবান ডেভেলপমেন্ট’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা খুলেছিল। তার টাকা, স্টাফদের মাইনেই বা কোথা থেকে আসত, দেখা হচ্ছে সে সব।
লালবাজার যে সিট গঠন করেছে, সেখানে প্রতারণা দমন, ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন এবং বিশেষ সেলের আধিকারিকরদের ১০ জনকে রাখা হয়েছে। তাঁরা বিষয়টি আগাগোড়া খতিয়ে দেখবেন।
এই অভিযুক্ত ইউনিভার্সিটি ড্রপ আউট। অতিমারীর শুরুতে সে মাস্ক, স্যানিটাইজার, পিপিই ইত্যাদির ব্যবসা শুরু করে। আবার অনেক সময় কারও প্রয়োজনে বিনামূল্যেও সে সব দিত। প্রতারণার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই এই ‘সমাজসেবা’ কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তা-ও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top