‘একতরফা অসম্মান’ মোদীর বৈঠকের পর সরব মমতা

MODI-MAMATA.jpg

কলকাতা: কোভিড নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর তোয়াক্কা না করেমুখ্যমন্ত্রীদের অসম্মান করেছেন বলে তোপ দাগলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা মোকাবিলা নিয়েআজ, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, শীর্ষস্থানীয় কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মোদী। সেইবৈঠকের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কোনও আর্থিক সহায়তার কথাবলেননি। এমনকী কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলার সুযোগও দেননি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এটা কোনও একতরফা কথা ছিল না। এটা ছিল একতরফা অসম্মান।

কেন প্রধানমন্ত্রী কোনও কথা বলার সুযোগ দেননি, সে ব্যাপারেও মুখ খুলেছেন মমতা। তাঁর প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী কি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন? সেই কারণে কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে কথা বলতে দিচ্ছেন না? এত ভয় কীসের? মুখ্যমন্ত্রীদের কথাই যদি নাশুনবেন, তা হলে আমাদের ডাকলেন কেন? কয়েকজনজেলাশাসকের কথা শুনে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রীদের অসম্মান করলেন।

সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে পর্যদুস্ত হয়েছে বিজেপি। মোদী, শাহ থেকে শুরুকরে গেরুয়া শিবিরের তাবড় নেতা রাজ্যে এসে লাগাতার প্রচার চালালেও সুবিধা করতে পারেননি।তারপরে দিনই প্রথম কোনও প্রশাসনিক বৈঠকে মোদীমমতার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা ছিল। অতীতেরবেশ কয়েকটি বৈঠক মমতা এড়িয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার হাজির ছিলেন তিনি।

কিন্তু সেই বৈঠকে মোদীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, শয্যা, টিকা বাঅক্সিজেনের জোগান কিংবা কোভিড রোগীদের মধ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ বিষয়ে কিছুই জানতেচাননি প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমরা বিব্রত, আমরা অপমানিত।বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়েআলোচনার প্রস্তুতি সত্ত্বেও কোনও প্রসঙ্গই উত্থাপন করার সুযোগ পাননি মমতা।

তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্তগাছাড়াএবংউদ্ধতআচরণ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘কতগুলো রাজ্য উপস্থিত ছিল। কাউকে একটাও কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো না। কী মনে করেনিজেদের? আমরা কি হাতের পুতুল, না চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক? রাষ্ট্রীয় কাঠামোটাকে ওরা সম্পূর্ণ ভাবে নষ্টকরে দিচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মারা যাচ্ছে আর ওরা স্ট্যাচু বানাচ্ছে, এটা ভাঙছে, সব করছে।সব মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে কথা না বললেও তাঁর মতে যে এই আচরণ একনায়কতন্ত্র এবং মার্শাল আইনেরসমান, তা জানিয়েছেনদিদি দিন ছিল তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১০ বছর। সে প্রসঙ্গ উল্লেখ করেমুখ্যমন্ত্রীমামাটিমানুষেরপ্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই সরব হন তাঁর এককালের সতীর্থ বর্তমানে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। টুইটারে লেখেনপ্রশাসনে যে তাঁর কোনও আগ্রহ নেই, আরও একবারসে কথা প্রমাণ করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলার আধিকারিকদের সঙ্গেপ্রধানমন্ত্রীর একটি বৈঠকে নিজস্ব ঢঙে রাজনীতির রং দিলেন তিনি। মমতা যে মোদীর ডাকা বিভিন্নবৈঠকে অনুপস্থিত থেকেছেন, টুইট করে তা জানান শুভেন্দু।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top