‘ঘনিষ্ঠদের’ রাজভবনে নিয়োগের অভিযোগ ঠিক নয়, মহুয়া মৈত্রর টুইটের জবাব ধনখড়ের

Jagdeep-Dhankhar-and-mahua-moitra.jpg

কলকাতা: রবিবার রাতে যেখানে শেষ হয়েছিল, সোমবারের শুরুটা হলো সেখানেই।
দিনকয়েক আগেই টুইট করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রবিবার একের পর এক টুইটে তাঁকে বিঁধতে শুরু করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। কোনওটায় লেখেন ধনখড় অন্য কাজ খুঁজে নিলেই পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কী কাজ, তার উদাহরণও দেন মহুয়া। লেখেন — উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উপদেষ্টা হয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের ব্যবস্থা করতে পারেন বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়ে অতিমারীর সময়ে গা-ঢাকা দেওয়ার পথ দেখাতে পারেন।
এ পর্যন্ত তবু ঠিক ছিল। এরপর রাজ্যপালকে ‘আঙ্কলজি’ সম্বোধনে মহুয়া ছ’জনের নামের তালিকা দেন, যাঁদের প্রত্যেকেই রাজভবনের কোনও না কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন এবং সকলে রাজ্যপালের সঙ্গে সম্পর্কিত। পদ ও সম্পর্কের বিস্তারিত তথ্যও টুইটে জানান মহুয়া। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সাংবিধানিক দায়িত্ব’ স্মরণ করিয়ে মাঝেমধ্যেই টুইট করেন ধনখড়। মহুয়াও তাঁর টুইটে সেই শব্দবন্ধ ফিরিয়ে দেন। পরে আবার টুইটটি ডিলিট-ও করে দেওয়া হয়।
রবিবার এ নিয়ে মুখ খোলেননি ধনখড়। আজ, সোমবার টুইটে দাবি করেন, তাঁর ঘনিষ্ঠরা রাজভবনে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, এই অভিযোগ ঠিক নয়। যে ছ’জনের কথা বলা হয়েছে, তাঁরা আদতে তিনটি পৃথক রাজ্যের বাসিন্দা। অনেকে তাঁর জাতেরও নন বলে পাল্টা দাবি রাজ্যপালের। উত্তর দিতে সময় নেননি মহুয়া। তিনি দাবি করেন, ওই ছ’জনের পূর্বের পরিচয় এবং কী ভাবে তাঁরা রাজভবনে দায়িত্ব পেলেন, সেটা অবিলম্বে জানাতে হবে ‘আঙ্কলজি’কে (ধনখড়)। এ ক্ষেত্রে আইটি সেল তাঁকে সাহায্য করতে পারবে না বলেও কটাক্ষ করেছেন মহুয়া।
রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক কোনওদিনই তেমন ভালো নয়। সম্প্রতি ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি ইত্যাদি নানা কারণে তা নতুন মাত্রা নেয়। আজ, সোমবার নতুন মুখ্যসচিবকে আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে রাজভবনে ডেকেছেন রাজ্যপাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top