ভয়াবহ আগুন লেক টাউনের জয়া সিনেমা হলে

Polish_20210703_021608007.jpg

কলকাতা: লেকটাউনের জয়া সিনেমা হলে বিধ্বংসী আগুন লাগল শুক্রবার রাতে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি সিনেমা হলের নিরাপত্তা রক্ষী ও তাঁর স্ত্রী। দু’জনেরই শরীরের সত্তর শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলে খবর।
এদিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ সিনেমা হলের দোতলা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরাই দমকলে খবর দেন।
ওই সিনেমা হলে জয়া ও মিনি জয়া দু’টি প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। খবর পেয়ে প্রথমে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু অতগুলি ইঞ্জিনিয়ের চেষ্টাতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। উল্টে তার তীব্রতা বাড়তে থাকে। তখন আরও পাঁচটি ইঞ্জিন পৌঁছয়। সাড়ে ১১টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঠিক কী থেকে আগুন লেগেছে, সেটা স্পষ্ট নয়। তবে সিনেমা হলের ভিতরে কোথাও রান্নাবান্না চলছিল। তা থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে প্রাথমিক অনুমান। সিনেমা হলটির আশপাশে ঘনবসতি। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের বিপত্তি হতে পারত। ঝুঁকি এড়াতে প্রথমেই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। হলটির উপরের ঘরে একজন নিরাপত্তারক্ষী ও তাঁর স্ত্রী থাকতেন। তাঁরাই অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।
এ দিন রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি বলেন, ‘জয়া সিনেমা হলের সঙ্গে অনেকের নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দুঃখজনক ঘটনা। কী ভাবে আগুন লাগল, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। মনে হচ্ছে ভিতরে রান্না হচ্ছিল।’
আগুনের শিখা প্রথম দেখতে পান নীচে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীর। সেই থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা আগুনটি দেখতে পান। প্রাথমিক ভাবে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। খানিকক্ষণের মধ্যে পৌঁছয় দমকল। আশপাশের বাড়ি থেকে জল ঢালার চেষ্টা চালান কর্মীরা। ঘটনাটির সূত্রপাত রাত সওয়া ন’টা-সাড়ে ন’টা নাগাদ। আগুনের শিখার সঙ্গে কালো ধোঁয়া দেখতে পান এলাকার বাসিন্দারা।
ধোঁয়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। তখন হলের উপরের দিকে থাকায় বেরোতে পারেননি নিরাপত্তারক্ষী ও তাঁর স্ত্রী। এলাকাবাসীই তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
আগুন প্রথমে লাগে মিনি জয়া সিনেমা হলে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে জয়া প্রেক্ষাগৃহের একাংশে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে হলের ক্ষতির যথাযথ পরিমাপ করা যাবে বলে জানান হল মালিক মানিক বণিক। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে হলের তিন ও চারতলা পুরোপুরি ভস্মীভূত। দমকলের তরফে জানানো হয়েছে, ফরেন্সিক পরীক্ষায় আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।
এমনিতেই করোনায় সিনেমা হল বন্ধ। দীর্ঘ কড়াকড়িতে ক্ষতি যথেষ্ট হয়েছে। তার উপরে এই আগুনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top