‘চর্বি ঝরে গেলে শরীরের ভালো’, দলত্যাগ ইস্যুতে দিলীপ, আজ রাজভবনে শুভেন্দু

suvendu-and-dilip.jpg

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী। তখনও দলে ছিলেন মুকুল রায় — ফাইল চিত্র

কলকাতা: রবিবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেছিলেন — বিজেপিতে থাকতে হলে ত্যাগ, তপস্যা করতে হয়। যাঁরা কেবল ক্ষমতার জন্য দলে এসেছেন, তাঁদের আমরাই রাখব না।
তার পরদিন, আজ, সোমবারও ফের দলবদলুদের নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আজ সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তাঁর জবাব, ‘শরীরে হঠাৎ চর্বি বেড়ে গেলে হয়তো দেখতে ভালো লাগে, ভরা ভরা লাগে, কিন্তু সেই চর্বিটা ঝরে গেলেই শরীরের পক্ষে ভালো। এখন আমাদের চর্বি কম হচ্ছে আস্তে আস্তে। এরপর আমাদের আসল স্বাস্থ্যটা বোঝা যাবে।’
গত শুক্রবার ছেলে শুভ্রাংশুকে নিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল রায়। তারপরে বহু নেতা, এমনকী বিধায়কও বেসুর ধরেছেন। তাঁদের অনেককে তৃণমূল ভাঙিয়ে ভোটের মুখে দলে নিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। এই দিলীপেরই যুক্তি ছিল, ভোটে ভালো ফল করতে হলে দল বাড়াতে হবে। সেই ‘বড়’ দল ভেঙে যখন নেতারা অন্য দলে যাচ্ছেন, তখন তিনি দলবদলুদের শরীরের মেদের সঙ্গে তুলনায় করায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও শুক্রবার মুকুলের দল বদলের পরপর বিষয়টাকে বিশেষ আমল দিতে চায়নি বিজেপি শিবির।
এরই মধ্যে আবার তৃণমূলে যাওয়ার তালিকায় নাম তুলেছেন বিজেপির রাজ্য কিষাণ মোর্চার সম্পাদক, আইনজীবী দেবযানী দাশগুপ্ত। সোমবার সকালে টুইটে বিজেপির সব পদ থেকে ইস্তফার কথা জানান। লেখেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। এ নিয়ে অবশ্য বিজেপি এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। মুকুলের সঙ্গে দেবযানীর সম্পর্ক বরাবরই ভালো। মুকুল বিজেপি ছাড়ার পর তার প্রভাব পড়ে দেবযানীর উপরেও। এ বার ‘দিদি’কে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চেয়ে দল ছাড়লেন তিনি।
এ দিকে, মুকুল দল ছাড়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, রাজ্যে দতল্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করেই ছাড়বেন তিনি। আজ, সোমবার বিকেল চারটেয় বিধায়কদের প্রতিনিধি দল রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করার কথা তাঁর। টুইটে নিজেই জানিয়েছেন সে কথা। বিধানসভায় দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকরের লক্ষ্যেই শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কদের এই কর্মসূচি বলে খবর।
তবে অভিজ্ঞদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র স্পিকারের। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিরও কিছু করার থাকে না। বিজেপির নেতারা সে কথাটা জানেন না, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। বরং মুকুলের দলত্যাগের পরে যাতে বিষয়টি চর্চায় থাকে, খানিক আলোচনা হয়, সেই লক্ষ্যেই নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শুভেন্দুরা দলবদলের প্রসঙ্গ জিইয়ে রাখতে চাইছেন বলে মনে করছেন অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top