৩০ দিনে জবাব দিন, না হলে পরিণামের জন্য প্রস্তুত থাকুন, আলাপনকে কড়া চিঠি কেন্দ্রের

alapan-bandyopadhyay.jpg

কলকাতা: বিতর্ক যেন শেষ হচ্ছেই না। একটু থিতু হতে না হতেই মাথাচাড়া দিচ্ছে নতুন বিতর্ক।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নারদ-নারদ একটু ঝিমিয়ে পড়েছিল মাঝে। কিন্তু সোমবার তাঁকে ফের একটি কড়া চিঠি দিয়েছে কেন্দ্র। যার জেরে নতুন করে ভেসে উঠেছে আলাপন-বিতর্ক। আলাপন বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ্য উপদেষ্টা।
গত ৩১ মে কেন্দ্রের ডেপুটেশনে যোগ দেননি আলাপন। সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড় চলছে বলে আজকের চিঠিতে জানানো হয়। চিঠিটি এসেছে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (ডিওপিটি) থেকে। ৩০ দিনের মধ্যে আলাপনকে এই চিঠির উত্তর দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজের বক্তব্য জানাতে পারেন। না হলে তাঁকে পরিণামের সম্মুখীন হতে হবে।
আলাপন ১৯৮৭ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এ বছর ৩১ মে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তখনও কোভিডের প্রবল দাপাদাপি। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যসচিব হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন আলাপন। তাই তাঁর কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্র তাতে সায় দেয়। তিন মাসের জন্য কার্যকালের মেয়াদ বাড়ানো হয় আলাপনের।
তার দিনকয়েকের মধ্যেই রাজ্যে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস পরবর্তী পরিস্থিতি দেখতে তাঁর এই সফর। কলাইকুন্ডায় মোদী পৌঁছনোর পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন। কিন্তু মোদীর রিভিউ বৈঠকে মমতা ও আলাপন যোগ দেননি। দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। গত ২৮ মে-র সেই বৈঠক ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত।
সে দিনই আলাপনকে চিঠি দেয় কেন্দ্র। বলা হয়, ৩১ মে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে যোগ দিতে হবে দিল্লিতে।
এ নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছয়। মুখ্যসচিবকে করোনার জন্য কেন্দ্রই এক্সটেনশন দিয়েছিল। আবার তারাই তাঁকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনের ডেকে পাঠাচ্ছে কেন, এ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। মমতা কলাইকুন্ডার বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানান। পাশাপাশি আলাপনকে এ ভাবে আচমকা তলবের বিরোধিতা করে মোদীকে চিঠি দেন। রাজ্যকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে কী করে আলাপনকে তলব করা হলো, সে প্রশ্নও তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভঙ্গ করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এক্সটেনশন না নিয়ে ৩১ মে-ই অবসর নিয়ে নেন আলাপন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করেন মমতা। এর পরে আবার অন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে অবসরপ্রাপ্তদের নিয়োগে নজরদারির কথা বলে কেন্দ্র। যদিও সেই নিয়ম আলাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, কলাইকুন্ডার বৈঠকে আলাপনের অনুপস্থিতি নিয়ে শো-কজ করা হয় তাঁকে। যার জবাবে এই অবসরপ্রাপ্ত আমলা জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে কোনও কর্তৃপক্ষকে তিনি অমান্য করেননি। তবে চেষ্টা করেও কলাইকুন্ডায় মোদীকে রিসিভ করতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top