রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

WhatsApp-Image-2021-07-02-at-5.32.20-PM.jpeg

Onlooker desk: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার (Bengal post poll violence) তদন্তভার সিবিআইকে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। এপ্রিল-মে মাসে নির্বাচনের পরে যে হিংসা-হানাহানির অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে।
পাশাপাশি হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশ, সেই তদন্তকারী দলে থাকবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার নানা অভিযোগের শুনানি করছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।
বিজেপির দাবি, তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা তাদের দলের কর্মীদের হত্যা করেছে। মহিলাদের আক্রমণ করেছে। ঘরবাড়ি ভাঙচুর, দোকান লুট, অন্য পার্টির অফিস দখল করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই অভিযোগগুলি মানতে চায়নি। হিংসা, হানাহানির খবর পুরোপুরি মিথ্যে ও অতিরঞ্জিত বলে দাবি করে তারা। ভুয়ো ভিডিয়ো ও ছবি ছড়িয়ে অন্যায্য দাবি করা হচ্ছে বলেও বক্তব্য সরকারের।
সরকারের দাবি, ভোট গণনার দিন অর্থাৎ গত ২ মে-ই সবচেয়ে বেশি হানাহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই সময়ে রাজ্যের পুলিশ ছিল নির্বাচন কমিশনের আওতাধীন।
এর আগে ভোট পরবর্তী হিংসা (Bengal post poll violence) নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (NHRC) প্রাথমিক তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিল হাইকোর্ট। কিন্তু সেই রিপোর্ট নিয়ে বিস্তর বিতর্ক বাধে।
ভোট পরবর্তী হিংসা (Bengal post poll violence) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে নিশানা করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। সন্ত্রাসের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারই দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়। তা ছাড়া, এমন সব ঘটনা ঘটে গেলেও সরকারের তরফে কোনও সহমর্মিতা দেখা যায়নি। ওই রিপোর্টে মানবাধিকার কমিশনই খুন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করে। এবং বলে, শুনানি হোক রাজ্যের বাইরে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তুলোধোনা করে দেওয়া ওই রিপোর্টে মন্তব্য করা হয় — ই ঘটনাগুলি যে সময়ে ঘটেছিল, তখন রাজ্যে আইনের শাসনের পরিবর্তে শাসকের আইন চলছিল। স্থানীয় পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়।
স্বাভাবিক ভাবেই এই রিপোর্টের পাল্টা আসে সরকারের তরফে। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেছিলেন, রিপোর্ট ফাঁস করে দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) আদালত অবমাননা করেছে। বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার লাইনকেই তারা এর মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।
কমিশন এই দায় অস্বীকার করে। তাদের দাবি, কোর্টের নির্দেশে ওই রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট সকল পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল। তাই তাদের তরফে রিপোর্ট ফাঁস হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে মানবাধিকার কমিশন।
গত মাসে এই রিপোর্ট অগ্রাহ্য করার জন্য হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানায় রাজ্য সরকার। মানবাধিকার কমিশনের প্যানেলের একাধিক সদস্যের সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে বলে হলফনামায় রাজ্যের দাবি। রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার (Bengal post poll violence) ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছে কয়েকটি পরিবার।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top