উঠল স্থগিতাদেশ, স্বস্তি প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে

KOLKATA-HIGH-COURT.jpg

কলকাতা: অবশেষে স্বস্তি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায়।
উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগে তাদের জারি করা স্থগিতাদেশ তুলে নিল কলকাতা হাইকোর্ট। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে স্বস্তি পেলেন বহু চাকরি প্রার্থী। পাশাপাশি, যাঁদের এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) কাছে তা জানাতে পারবেন।
গত ২১ জুন উচ্চ প্রাথমিকের ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। তার পরেই ওই তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে মামলাও দায়ের হয়। একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে হাইকোর্ট। গত ২ জুলাই আদালত নির্দেশ দেয়, ৭ দিনের মধ্যে নতুন করে তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসি-কে।
আগের তালিকার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগটি ছিল অস্বচ্ছতার। কারণ সেখানে প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ ছিল না। এ ছাড়া, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে কে কত পেয়েছেন, সেই সবিস্তার তথ্যও ছিল না তালিকায়। হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, সমস্ত তথ্য জানিয়ে সাত দিনের মধ্যে নতুন তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
সেই মতো বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে নতুন ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। আদালতে তা জমা করা হয় শুক্রবার। কোর্ট সেই তালিকায় সন্তুষ্ট। এবং তার জেরেই তুলে নেওয়া হয় স্থগিতাদেশ।
এ দিনও অবশ্য মার্কশিট নিয়ে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা পড়ে আদালতে। কিন্তু বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় তা গ্রহণ করেননি। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘৫ বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। আমি চাই না নিয়োগে আরও দেরি হোক।’ একই সঙ্গে বিচারপতি বলেন, ‘২০১৬ সালে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অনেকেরই বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। আমি রাজ্য সরকার ও কমিশনকে অনুরোধ করব, এঁদের ৫ বছর ছাড় দেওয়া হোক।’
তিনি জানান, তালিকা নিয়ে কোনও প্রার্থীর আপত্তি থাকলে দু’সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে তা জানানো যাবে। আট সপ্তাহের মধ্যে সে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হবে এসএসসি-কে। তারপর চিঠি বা ইমেলে জবাব পাঠাতে হবে প্রার্থীকে। সব মিলিয়ে ১২ সপ্তাহের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। কমিশন চাইলে এ জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করতে পারে। তাঁরা প্রার্থীদের অভিযোগ খতিয়ে দেখবেন। আবার, কোনও অযোগ্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে অভিযোগ জানালে কমিশন প্রয়োজনে তাঁকে জরিমানা করতে পারে।
তবে এতকিছুর পরেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি এসএসসি-র। বৃহস্পতিবারও একদল প্রার্থী তালিকায় অসঙ্গতি নিয়ে সল্টলেকে কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান। শুক্রবার ফের একদল সামিল হয়েছিল বিক্ষোভে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top