‘রাজনীতি না করেও সমাজ সেবা করা যায়’, ফেসবুক পোস্টে বিজেপি ছাড়ার ঘোষণা বাবুল সুপ্রিয়র

babul-supriyo1.jpg

কলকাতা: বিজেপি ছাড়লেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। ‘চললাম..আলভিদা’ দিয়ে শুরু লম্বা ফেসবুক পোস্টে সে কথা জানিয়েছেন বাবুল। আর বিদায় জানানোর জন্য বেছে নিয়েছেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গানের কলি। লিখেছেন — ‘বেশ কিছু সময়ে তো থাকলাম’.. কিছু মন রাখলাম কিছু ভাঙলাম.. কোথাও আপনাদের হয়তো আমার কাজে খুশি করলাম, কোথাও নিরাশ হতাশ করলাম | মূল্যায়ন আপনারাই নয় করবেন।
তবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম বা অন্য কোনও দল তাঁকে ডাকেনি। এবং তিনি কোনও দলে যাচ্ছেন না। ইংরেজিতে লিখেছেন — আমি বরাবরই এক দলের খেলোয়াড়! বরাবর একটিই দলকে সমর্থন করেছি #মোহনবাগান। একটিই পার্টি করেছি বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গল..ব্যস!!
বাবুলকে নিয়ে মাঝেমাঝেই নানা কথা সামনে আসছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদলে মন্ত্রিত্ব হারান বাংলার এই সাংসদ। তারপরে ইঙ্গিতবাহী পোস্টে কিছুটা অভিমান প্রকাশ করেছিলেন এই গায়ক-সাংসদ।

শনিবার ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সবার সব কথা শুনলাম— বাবা, (মা) স্ত্রী, কন্যা, দু-একজন প্রিয় বন্ধুবান্ধব.. সবটুকু শুনে বুঝেই অনুভব করেই বলি, অন্য কোন দলেও যাচ্ছি না। এটা নিশ্চিত করছি। কেউ আমাকে ডাকেওনি, আমিও কোথাও যাচ্ছি না।’ তার পরেই সাংসদ লিখেছেন, ‘বেশ কিছু সময়ে তো থাকলাম’.. কিছু মন রাখলাম কিছু ভাঙলাম.. কোথাও আপনাদের হয়তো আমার কাজে খুশি করলাম, কোথাও নিরাশ হতাশ করলাম| মূল্যায়ণ আপনারাই না হয় করবেন। আমি ‘আমার’ মনে ওঠা সব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরই বলছি.. আমার মতো করেই বলছি.. চললাম।’
তবে পরের লাইনটা কিছুটা বিস্ফোরক। তিনি লিখেছেন, ‘সোশ্যাল ওয়ার্ক করতে গেলে রাজনীতিতে না থেকেও করা যায়। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিই আগে তারপর…।’
তবে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব যে তাঁকে দলে রাখতে চাইছেন সেটা উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘গত কয়েক দিনে বার বার মাননীয় অমিত শাহ ও মাননীয় নাড্ডাজির কাছে রাজনীতি ছাড়ার সঙ্কল্প নিয়ে গিয়েছি এবং আমি ওঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ যে প্রতিবারই ওঁরা আমাকে নানা ভাবে অনুপ্রাণিত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন| আমি তাঁদের এই ভালোবাসা কোনও দিন ভুলব না আর তাই আবার তাঁদের কাছে গিয়ে সেই একই কথা বলার ধৃষ্টতা আর আমি দেখাতে পারব না। বিশেষ করে ‘আমার আমি’ কি করতে চাই তা যখন আমি অনেকদিন আগেই ঠিক করে ফেলেছি| কাজেই আবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করতে গেলে কোথাও না কোথাও তাঁরা ভাবতেই পারেন যে আমি কোনও ‘পদের’ জন্য ‘Bargain’ করছি | আর তা যখন একেবারেই সত্য নয় তখন একেবারেই চাই না যে তাঁদের মনের ঈশান কোণেও সেই ‘সন্দেহের’ উদ্রেক হোক – এক মূহুর্তের জন্য হলেও | প্রার্থনা করি ওঁরা আমায় ভুল না বুঝে, ক্ষমা করবেন|’
এর পরেই লিখেছেন, ‘একটা প্রশ্নের জবাব আমাকে দিয়ে যেতেই হবে because it’s pertinent ! প্রশ্ন উঠবেই কেনই বা রাজনীতি ছাড়তে গেছিলাম? মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার সঙ্গে তার কি কোনও সম্পর্ক আছে? হ্যাঁ আছে। কিছুটা তো নিশ্চয়ই আছে। তঞ্চকতা করতে চাই না তাই সে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেই তা সঠিক হবে-আমাকেও তা শান্তি দেবে|’
দলের অন্দরে অসন্তোষের বিষয়টিও সামনে এনেছেন বাবুল। তিনি লিখেছেন, ‘ভোটের আগে থেকেই কিছু কিছু ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে মতান্তর হচ্ছিল। তা হতেই পারে কিন্তু তার মধ্যে কিছু বিষয় জনসমক্ষে চলে আসছিল। তার জন্য কোথাও আমি দায়ী (একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম যা পার্টির শৃঙ্খলাভঙ্গের পর্যায়েই পড়ে) আবার কোথাও অন্য নেতারাও ভীষণ ভাবে দায়ী, যদিও কে কতটা দায়ী সে প্রসঙ্গে আমি আজ আর যেতে চাই না। কিন্তু সিনিয়র নেতাদের মতানৈক্য ও কলহে পার্টির ক্ষতি তো হচ্ছিলই। ‘গ্রাউন্ড জিরো’-তেও পার্টির কর্মীদের মনোবলকে যে তা কোনও ভাবেই সাহায্য করছিল না তা বুঝতে ‘রকেট বিজ্ঞান’-এর জ্ঞানের দরকার হয় না। এই মুহূর্তে তো তা একেবারেই অনভিপ্রেত। তাই আসানসোলের মানুষকে অসীম কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমিই সরে যাচ্ছি।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে বরাদ্দ বাড়িটিও দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাবুল।

শেষে লিখেছেন, ‘১৯৯২ সালে ব্যাঙ্কের চাকরি ছেড়ে মুম্বইয়ে পালানোর সময়েও তাই করেছিলাম, আজ তাই করলাম!’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top