‘আমি কী করব’, মুকুলের দলত্যাগকে পাত্তাই দিলেন না দিলীপ

Polish_20210611_192130716.jpg

কলকাতা: মুকুল রায়ের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনকে আপাত ভাবে গুরুত্ব দিতে চাইছে না বিজেপি। এক দিকে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মদুমদার মুকুল রায়কে (Mukul Roy) ‘নতুন ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা’ জানালেন, অন্যদিকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) প্রশ্ন তুললেন, ‘এতে আমি কী করব?’ বিজেপির নেতাদের কেউ কেউ মুকুলকে ‘গদ্দার’ বলছেন। আবার, সপুত্র মুকুল আজই তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হতেই শুভেন্দুকে উদ্দেশ করে ফেসবুক পোস্টে ‘জঞ্জাল’ বলে উল্লেখ করলেন বৈশালী ডালমিয়া।
আজ, শুক্রবার বনগাঁয় সাংগঠনিক জেলার বৈঠক ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে মুকুল-প্রসঙ্গে দিলীপ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘আমাদের দলের অনেক কর্মী ঘরছাড়া। সকলকে শান্তিতে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়াই এখন কাজ। কে গেল-কে এল, তা নিয়ে ভাবতে চাই না।’ কিন্তু সাংবাদিকরা তারপরেও মুকুলকে নিয়ে প্রশ্ন করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতিকে। যার প্রেক্ষিতে মুখ ঘুরিয়ে দিলীপ পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমি কী করব?’
এ দিন বিকেলে মুকুলের (Mukul Roy) তৃণমূলে যোগদানের খানিকক্ষণবাদেই সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি। সেখানে তিনি বলেন, ‘মুকুলবাবুকে নতুন ইনিংসের শুভেচ্ছা। উনি পুরোনো দলে নতুন ইনিংস শুরু করলেন। এই পদক্ষেপের বিচার ভবিষ্যতে হবে।’
এ দিকে, মুকুল (Mukul Roy) আজই তৃণমূলে ফিরতে চলেছেন বলে খবর ছড়াতই তাঁকে ‘জঞ্জাল’ বলে নিশানা করলেন বৈশালী। ফেসবুকে দলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিজেপিকে ‘জঞ্জালমুক্ত’ করার আবেদন জানিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, শুভেন্দুর হাত ধরেই বৈশালীর বিজেপিতে যোগদান বলে দিলীপকে এড়িয়ে এই পোস্ট।
পাশাপাশি, এ দিন ফের দিলীপের বৈঠকে বিজেপি নেতাদের গরহাজিরা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বনগাঁয় যে সাংগঠনিক বৈঠক হয়েছে, সেখানে থাকার কথা ছিল বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার ছ’জন বিধায়ক ও সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের। কিন্তু শান্তনু বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। ৩ জন বিধায়কও হাজির হননি । অনুপস্থিতি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ বলেন, ‘সকলকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। তাঁরা নিশ্চয়ই আসবেন।’ কিন্তু দেখা যায়, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর, বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া গরহাজির। ছিলেন না শান্তনুও। পরে রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘কিছু লোক বিধানসভার আগে ভোটে জিততে এসেছিলেন। তার পর বিভিন্ন অভিযোগে বেসুরো হয়েছেন। তাঁদের জন্য দলের কোনও ক্ষতি হবে না। দলের সম্পদ দলের কর্মীরা। তাঁরা সঙ্গে আছেন।’ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক দেবদাস মণ্ডলও।
অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘আমি অসুস্থ। সর্দি-কাশি-জ্বর হয়েছে। তাই যাওয়া হলো না।’ বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসও জানান, তাঁর শরীর ভালো নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top