দিল্লি থেকে ফিরেই উত্তরবঙ্গ সফরে রাজ্যপাল, তার আগে গুচ্ছ নালিশ শুভেন্দুর

Suvendu-Adhikari-complains-against-state.jpg

রাজভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাত শুভেন্দু অধিকারীর (ছবি- টুইটার)

কলকাতা: দিল্লি থেকেই ফিরেই উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (jagdeep dhankhar)। সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামবেন তিনি। সেখানে সাংবাদিক বৈঠকের পর আপাতত এক সপ্তাহ থাকবেন দার্জিলিং রাজ ভবনে। রবিবার টুইট করে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। এমনিতে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা উত্তরবঙ্গকে আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার দাবি তুলেছেন। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গ সফরের আগে রবিবার রাজ ভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য প্রশাসন এবং কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে গুচ্ছ অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। পরে রাজ্যপালই সে কথা টুইটে জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন দিল্লি গিয়েছিলেন রাজ্যপাল। তার আগের দিনও দলের ৫১ বিধায়ককে নিয়ে রাজভবনে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় বিধায়করা রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তার পর দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন রাজ্যপাল। সবার কাছেই রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ছবি তুলে ধরেন বলে সূত্রের খবর। এমনকী কয়লামন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন বলে সূত্রের খবর। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরেই তিনি জানিয়েছিলেন, ‘সংবিধান, আইনের শাসনের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নয়। পশ্চিম বাংলায় নিজের বাড়িতে থাকতেও তোলা দিতে হচ্ছে। অনেক পরিবার তাদের আপনজনকে হারিয়েছে। দিল্লিতে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি।’ আবার দিল্লি থেকে ফিরেই উত্তরবঙ্গ সফর নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ বিজেপি সাংসদের পৃথক রাজ্যের দাবি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। ‘বঙ্গভঙ্গ’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমেও। উল্লেখ্য, ২১ জুন উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেই সফর বাতিল হয়।
শুভেন্দুর সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যপাল টুইটে লেখেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন। এছাড়াও তিনি রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। রাজ্যব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অপরাধমূলক কাজকর্ম চললেও রাজ্য প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। এমনকী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও উল্লেখ করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top