আলাপন প্রসঙ্গ ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’, নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মন্তব্য মমতার

mamata-and-alapan.jpg

কলকাতা: ‘আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যাপ্টার ইজ ওভার’ — বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যসচিব ও বর্তমানে সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা আলাপনকে নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এখনও পুরোপুরি থামেনি। কাল, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সশরীর হাজির হয়ে কেন্দ্রের শো-কজ পত্রের উত্তর দেওয়ার কথা আলাপনের। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যে তিনি আপাতত আর কিছু বলতে চান না, এ দিন ওই একটি বাক্যে সে কথাই বুঝিয়ে দিলেন মমতা।
টানাপড়েন-গোলমাল চলছে গত শুক্রবার থেকে। সে দিন কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রিভিউ বৈঠকে থাকেননি মমতা। মোদীর সঙ্গে দেখা করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান জানিয়ে দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে চনে যান তিনি। সঙ্গে যান আলাপনও। কেন তাঁরা মোদীর বৈঠকে ছিলেন না, এ নিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়। মমতা জানান, মোদীর অনুমতি নিয়েই সে দিন গিয়েছিলেন। দিল্লির একটি সূত্র আবার সম্প্রতি দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী মোটেই এমন কোনও অনুমতি দেননি। এরই মাঝে আলাপনকে দিল্লিতে ডেপুটেশনে ডাকে কেন্দ্র। তিনি তাতে সাড়া না-দিয়ে এক্সটেনশনের পথে না-হেঁটে অবসর নিয়ে নেন সোমবার। তারপরে কলাইকুন্ডার বৈঠকে তাঁর গরহাজিরা প্রসঙ্গে শো-কজ করে চিঠি পাঠায় কেন্দ্র। যার উত্তর কালকের মধ্যে দেওয়ার কথা।
মমতা ইতিমধ্যেই আলাপনের পাশে দাঁড়িয়ে পাঁচ পাতার চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সূত্রের দাবি, বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে আলাপনের বিরুদ্ধে এফআইআর করে ফৌজদারি প্রক্রিয়া পর্যন্ত শুরু হতে পারে। যুক্তি — রিভিউ বৈঠকে যোগ না-দিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ভেঙেছেন প্রাক্তন মুখ্যসচিব। এই আইন ভাঙলে এক বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার সংস্থান রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ তথা দলের যুব শাখার সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বলেন, ‘উনি বাংলার মানুষের জন্য কাজ করছিলেন। যিনি কাজ করছিলেন, তাঁকে কেন শো-কজ? প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন প্রয়োগ করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগ হোক। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও। কমিশনের ব্যর্থতা। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওই আইন প্রয়োগ হোক। দেশে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ, সকলকে বাড়িতে থাকার কথা বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তখন এ রাজ্যে এসে সভা করছেন। আর বলছেন, এত বড় সভা কখনও দেখিনি। ওর বিরুদ্ধে আগে ওই আইন প্রয়োগ হওয়া উচিত।’
সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতি তথা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে আলাপন বিতর্ক এখনও টানটান। সে বিষয়কেই আর গুরুত্ব না-দিয়ে তাকে ‘শেষ হয়ে যাওয়া অধ্যায়’ হিসাবে চিহ্নিত করে দিলেন মমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top