তৃণমূল ছবি তুলে ধরার পরেই ধৃত দেবাঞ্জনের দেহরক্ষী অরবিন্দ, নাম জড়িয়েছে রাজ্যপালেরও

Debanjan-Deb11.jpg

কলকাতা: বৃহস্পতিবার বিকেলেই তাঁর ছবি দেখিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৃণমূল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হলো অরবিন্দ বৈদ্যকে। তিনি ভুয়ো টিকাকরণ কাণ্ডের মূল পান্ডা দেবাঞ্জন দেবের নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সাংবাদিক বৈঠকে দেবাঞ্জনের সঙ্গে অরবিন্দের ছবি দেখানো হয়। পাশাপাশি, রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গেও এই নিরাপত্তারক্ষীর একটি ছবি তুলে ধরেন সুখেন্দুশেখর।
তিনি বলেন, ‘দেবাঞ্জন দেবের নিরাপত্তারক্ষী যদি রাজ্যপালের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। বা এই ছবিটি যদি সত্যি হয়। তা হলে তা রাজ্য এবং দেশের জন্য বিপজ্জনক।’ প্রসঙ্গত, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, ভুয়ো টিকাকরণের পিছনে যে বিজেপি নেই, তার কী প্রমাণ আছে?
বিজেপির কোনও নেতার সঙ্গে নয়। তবে রাজ্যপালের সঙ্গে অরবিন্দর ছবি তুলে পরদিনই আক্রমণ শানায় তৃণমূল।
রাজ্যের বিজেপি নেতারা এর পরেই নেমে পড়েন ময়দানে।
মুখ খোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি কী করে ওই ছবিতে গেলেন? সেটা জানতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গড়ুক রাজ্য। ওরা তো সবকিছুর জন্যই সিট গঠন করে। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে অনেকেই যান। কিন্তু ওই ব্যক্তি কেন গেলেন, তা নিয়ে তদন্ত হোক। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই।’
দিলীপের প্রশ্ন, ‘ঠিক কী হয়েছিল? চার্জশিটে কি নাম আছে? বাজারে অনেক ভুয়ো কাগজ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দলটাই ভুয়ো। অফিসাররা ভুয়ো। একটি ভুয়ো সিট গঠন করা হয়েছে। ভুয়ো টিকাকরণও চলছে।’
এ প্রসঙ্গে নাম না করে জৈন হাওয়ালাও উত্থাপন করেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘কোনও প্রমাণ নেই। তবু একটা ডায়েরিতে ধনখড় নামটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। ওদের (তৃণমূল) নেতাদের টিভিতে ঘুষ নিতে দেখা গেল। তবু কিছু হলো না।’
দিলীপের সংযোজন, ‘ওই ডায়েরিতে নাম থাকা ধনখড়ই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কি না, সেটা তদন্তের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। এ নিয়ে ওরা বরং কোর্টে মামলা করুক।’
ভুয়ো টিকাকরণে জড়িত অভিযোগে দেবাঞ্জনকে গ্রেপ্তার করা হয় গত সপ্তাহে। এ ব্যাপারে প্রথম আলোকপাত করেন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। নিজেকে আইএএস বলে পরিচয় দিত দেবাঞ্জন। সেই পরিচয়ে শহরে একাধিক ভুয়ো টিকাকরণ শিবিরের আয়োজন করে সে।
পুলিশ পরে জানতে পারে, অনেককে আর্থিক ভাবেও প্রতারণা করেছে দেবাঞ্জন। অভিযোগ, সে সবেই তার দোসর ছিলেন ধৃত অরবিন্দ। আজ, শুক্রবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘উনি দেবাঞ্জন দেবের নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করতেন। আজ, শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। দেবাঞ্জনের অনৈতিক কাজকর্ম সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণও রয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top