গুটিকয়েক লোকাল ট্রেন চললেও তাতে উঠতে পারবেন কারা? জেনে নিন

LOCAL-TRAIN.jpg

Onlooker desk: করোনা সংক্রমণ এড়াতে তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই লোকাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু প্রতিদিনই সব শাখায় বেশ কিছু লোকাল ট্রেন চলছে। যা দেখে অনেকের কৌতূহল, কারা চড়তে পারবেন এই ট্রেনগুলিতে। প্রথমত, এর আগেও লকডাউনের সময় রেলকর্মীদের যাতায়াতের জন্য এমন বেশ কয়েকটি ট্রেন চালু ছিল। এ বারও রেলকর্মীদের জন্য চলছে কিছু ট্রেন। নামও দেওয়া হয়েছে, ‘স্টাফ স্পেশ্যাল’। তবে ওই ট্রেনগুলিতে এবার থেকে রেলকর্মীদের পাশাপাশি যাতায়াত করতে পারবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পরিচয়পত্র দেখে তাঁদের ট্রেনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষ। এতে অনেকটাই উপকার হল বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
তবে সম্পূর্ণ লকডাউন ছাড়াই এ ভাবে লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় রাজ্য জুড়েই সমালোচনা শুরু হয়েছে প্রথম দিন থেকেই। প্রথমত শহরতলি থেকে শহরে কাজে আসা বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, অনেকেই উপায় না পেয়ে ভিড় বাসে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেশি। নিত্যযাত্রীদের বক্তব্য, কিছু দিন আগে থেকেই লোকাল ট্রেন সংখ্যায় কমিয়ে দিয়েছিলেন রেল কর্তৃপক্ষ। তাতেই ভিড় বাড়ছিল। সম্পূর্ণ লকডাউন না হলে মানুষ তো জীবিকার তাগিদে বেরোবেই। সেখানে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে ভিড় কমত এবং তাতে সংক্রমণের সম্ভাবনাও অনেকটা কমত।
যদিও রেলের অন্দরে অনেকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। এর মধ্যে যে ক’টি ট্রেন চলছে তাতে রেলকর্মীরাই তাঁদের কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করছিলেন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্যার কথা ভেবে প্রতিটি ট্রেনের দু’টি কামরা তাঁদের জন্য বরাদ্দ করেছে রেল। এতে যাতায়াতে অনেকটাই সুবিধা হবে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার গুড়াপের বাসিন্দা সুদীপা মিত্র পেশায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স। তাঁর কথায়, ‘লকডাউনের সময় আমরা কয়েক জন একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতাম। কিন্তু সেখানেও আপত্তি। এবার ট্রেনে রোজ যাতায়াত করতাম। কিন্তু ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। হাইওয়েতে গিয়ে বাসে যাতায়াত যেমন সমস্যা তেমন ভিড় থেকে সংক্রমণেরও ভয়। এখন ট্রেনে স্বাস্থ্যকর্মীদের ছাড় দেওয়া হলে খুবই ভালো। কারণ স্বাস্থ্যকর্মীরা সুরক্ষিত ভাবে যাতায়াত করতে না পারলে তো চিকিৎসা পরিষেবাতেও ঘাটতি দেখা যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top