সংক্রমণ বেড়ে ৪০, ‘ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ন’ হলো ডেল্টা প্লাস

Delta-Plus.jpg

Onlooker desk: মঙ্গলবার সরকার জানিয়েছিল, দেশে ডেল্টা প্লাস স্ট্রেনে আক্রান্ত ২২ জন। বুধবার তা বেড়ে হলো ৪০। সেই সঙ্গেই করোনার এই নতুন প্রজাতিকে ‘ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ন’ হিসাবে চিহ্নিত করল সরকার। অর্থাৎ তা এখন উদ্বেগের কারণ। মঙ্গলবারই মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশকে সতর্ক করেছিল সরকার। এই রাজ্যগুলিতে ডেল্টা প্লাস স্ট্রেনের খোঁজ মিলেছে।
ডেল্টা স্ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক ডেল্টা প্লাস। এই তিন রাজ্যে এখনও পর্যন্ত খোঁজ মিলেছে বলে অন্যত্রও পাওয়া যাবে না, তা নয়। তবে এখনই তা খুব বেশি বাড়েনি বলে সরকার জানিয়েছে। ৪০টি কেসের মধ্যে ২১টি মহারাষ্ট্রে, ৬টি মধ্যপ্রদেশে, তিনটি কেরালায়, তিনটি তামিলনাড়ুতে, দু’টি কর্নাটকে এবং পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ ও জম্মুতে একটি করে।
দ্বিতীয় ঢেউয়ের জেরে দেশের প্রায় সব রাজ্যই লকডাউন কিংবা বিধিনিষেধ জারি করেছিল। কেস কমে আসায় এখন বিভিন্ন রাজ্য ধীরে ধীরে আনলক শুরু করেছে। তারই মধ্যে নতুন করে চিন্তা বাড়াচ্ছে ডেল্টা প্লাস।
কোভিড ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য ২৮টি ল্যাবের একটি কনসর্শিয়াম আছে। তার নাম ইনসাকগ (ইন্ডিয়ান সারস-কভ-২ জিনোম কনসর্শিয়া)। তারা জানিয়েছে, ডেল্টা প্লাসের ধরন এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোভিড ভাইরাসের চারিদিকে প্রোটিনের স্পাইক বা কাঁটার মতো রয়েছে। সেই স্পাইকের সাহায্যে ভাইরাস মানুষের কোষে প্রবেশ করে। এবং স্পাইকে বদলের জেরেই ডেল্টা থেকে ডেল্টা প্লাসের অবতারণা।
কনসর্শিয়া জানিয়েছে — বর্তমানে দেশে ডেল্টা প্লাস সংক্রমণের সংখ্যা খুব কম। কিন্তু গত কয়েক মাসের পরিস্থিতির ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে, আরও কিছু রাজ্যে তা ছড়িয়ে পড়েছে। এ জন্য রাজ্যগুলিকে নজরদারি, টেস্ট, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং ও টিকাকরণে জোর বাড়াতে হবে। মহারাষ্ট্র জানিয়েছে, যাদের শরীরে ডেল্টা প্লাসের হদিস পাওয়া গিয়েছে, তাদের ট্রাভেল হিস্ট্রি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ন্যাশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অন ভ্যাকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান ভি কে পল বলেন, ‘হদিস-মেলা রাজ্যগুলিকে কেন্দ্র নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত যে পদ্ধতিতে কোভিডের চিকিৎসা হয়েছে, এখনও তাই হবে। তবে তাকে আরও জোরদার করতে হবে। এই অল্প সংখ্যা যাতে বড় আকার না-নেয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
ইনসাকগ জানিয়েছে, ডেল্টা প্লাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি। ফুসফুসের কোষের মতো রিসেপটরকে তা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর বিরুদ্ধে শরীরের অ্যান্টিবডিও বিশেষ কার্যকর হয় না। বর্তমান টিকাগুলি এর বিরুদ্ধে কতখানি সক্রিয়, তা-ও জানা নেই। সরকার পরে এ সংক্রান্ত তথ্য সামনে আনবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top