করোনায় মৃত্যু অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ারের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত স্ত্রী, দাহ এক চিতায়

CCCD.jpg

Onlooker desk: কোভিড কেড়ে নিল ভারতীয় সেনার ১৭ কুমায়ুন রেজিমেন্টের ‘ফাউন্ডিং ফাদার’, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আত্মা সিংকে (৯৬)। তাঁর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর মারা যান স্ত্রী সরলা আত্মাও (৮৪)। করোনায় আক্রান্ত ছিলেন সরলাও। একই চিতায় দাহ করা হয় স্বামী-স্ত্রীর দেহ। দু’জনেই সংক্রামিত হয়েছিলেন গত সপ্তাহে।

দম্পতির বড় মেয়ে, হরিয়ানার কংগ্রেস বিধায়ক কিরণ চৌধুরি বলেন, ‘বাবা-মায়ের মধ্যে অসম্ভব ভালোবাসা ছিল। বাবা সবসময় বলতেন, আমি চলে গিয়ে তোর মাকে কষ্ট পাওয়ার জন্য রেখে যাব না। সে কথাই মিলে গেল। বাড়িতে মারা গেলেন বাবা আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মা। দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে একই চিতায় তাঁদের দাহ করে সেনাবাহিনী।’

তিনি জানান, মিজো-হানা সহ চারটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে অংশ নিয়েছিলেন আত্মা সিং। ভারত-পাক যুদ্ধের পরে তাঁর রেজিমেন্টকে ভদৌরিয়া ব্যাটল অনারে সম্মানিত করা হয়। তবে বেশিরভাগই গোপন অপারেশন হওয়ায় বাবার সাহসিকতা নিয়ে কখনও কারও কাছে মুখ খুলতে পারেননি কিরণরা। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ। সেনাবাহিনীর প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল।’

পরিবার সূত্রের খবর, ১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধে তিনি ১৭ কুমায়ুন রেজিমেন্টকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভদৌরিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। একাধারে কড়া ও সহমর্মী এই নেতার প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্য দুই-ই ছিল তাঁর অধীনস্থ কর্মীদের। আত্মা সিংয়ের বন্ধু ও সহকর্মী ক্যাপ্টেন আরওয়াইএস চৌহান বলেন, ‘রেজিমেন্টের প্রত্যেক সদস্যের তো বটেই, তাঁদের পরিবারের দিকেও নজর ছিল ওঁর। আর যুদ্ধের সময়ে যুদ্ধ ছাড়া কোনও বিষয়ে কথা বলতেন না। সেই অধ্যবসায় ও সাহস তাঁকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। খুব দ্রুত পদোন্নতি হয়েছিল তাঁর। উনি ছিলেন আমাদের সকলের অনুপ্রেরণা ও আইডল।’ ১৯৭১-এর যুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সিংয়ের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে ছিলেন চৌহানও।

সুশৃঙ্খল আত্মা সিংয়ের ছিল অগাধ পড়াশোনা। কিরণের কথায়, ‘বাবা আমাকে সব সময় বই দিতেন। নিজেও প্রচুর বই পড়তেন। আর গুরুত্বপূর্ণ লাইন ও পৃষ্ঠা আলাদা করে দাগিয়ে রাখার স্বভাব ছিল তাঁর।’

স্ত্রী সরলা ছিলেন স্বামীর যোগ্য সঙ্গী। কার্যত একাই তিন ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছেন। বড় মেয়ে বলেন, ‘আমার দাদুও সেনাবাহিনীতে ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ময়দানে গিয়েছিলেন তিনি। তাই মা জানতেন যুদ্ধের কষ্ট। বাবাকে তিনি বুঝতেন। রং খুব প্রিয় ছিল ওঁর। লাল রং ছিল সবচেয়ে পছন্দের।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top