দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসে ইস্তফা উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর

Polish_20210703_013311525.jpg

Onlooker desk: দায়িত্ব নেওয়ার চার মাসের মধ্যে ইস্তফা দিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিং রাওয়াত। শুক্রবার রাজ্যপালের কাছে ইস্তফাপত্র দেন তিনি। প্রসঙ্গত, আগামী বছরই ভোট উত্তরাখণ্ডে।
হিন্দিতে এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন তীরথ। তিনি লেখেন — বর্তমানে এক সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমার মনে হয়েছে ইস্তফা দেওয়াই ঠিক। কোভিড-১৯ এর জন্য উপ-নির্বাচন আয়োজন করা যায়নি।
গত ক’দিন ধরে দিল্লির চক্কর কাটছিলেন তীরথ। বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ-ও করেন। শুক্রবার দুপুরে তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। তার খানিকক্ষণের মধ্যেই রাজ্যপাল বেবি রানি মৌর্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চান তীরথ। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার আগেই দলীয় নেতা জে পি নাড্ডার কাছে কাগজপত্র জমা দেন।
কাল, শনিবার নতুন নেতা নির্বাচনে বৈঠকে বসবেন বিজেপি সাংসদরা।
মার্চ মাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তীরথ। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভের মুখে দায়িত্ব নেন তীরথ। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রিত্ব ধরে রাখতে হলে তাঁকে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিধানসভায় জিতে আসতে হতো। বর্তমানে তিনি বিজেপি সাংসদ।
কিন্তু এখন ভোট করলে নির্বাচন কমিশন প্রবল সমালোচনার মুখে পড়বে। এমনিতেই করোনার বাড়বাড়ন্তের মধ্যে মার্চ-এপ্রিলে ভোট হয়েছে। তাতে যথেষ্ট মুখ পুড়েছে কমিশনের। শুক্রবারই কমিশনের এক সূত্র বলেন, ‘অনেকগুলি উপ-নির্বাচন বাকি রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির বিচারেই সব করতে হবে।’
তবে বিজেপি সূত্রের খবর, দলের ক্ষোভ প্রশমনে তীরথও বিশেষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে দু’জন মুখ্যমন্ত্রী পদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একজন সৎপাল মহারাজ, অন্যজন ধন সিং রাওয়াত। এ বছরের গোড়ায় তাঁদের টপকেই পদে বসেন তীরথ।
তাঁর অল্প ক’দিনের মুখ্যমন্ত্রিত্বে প্রচুর বিতর্ক দানা বেধেছে। তাঁর বেশ কিছু ঘোষণায় মানুষ ক্ষিপ্ত। সে কথা দিল্লির নেতৃত্বকে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডে বিজেপির নেতারা। এমনকী প্রকাশ্যে ত্রিবেন্দ্রর বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন তীরথ। যাতে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে তাঁর দল বিজেপি।
দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই মহিলাদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। ছেঁড়া জিনস পরা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন তীরথ। বলেছিলেন, ব্রিটিশরা নয়, আমেরিকা ২০০ বছর ভারতে রাজত্ব করে।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্কের সূত্রপাত কুম্ভমেলা আয়োজন ঘিরে। কোভিডের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি কুম্ভ আয়োজনে সায় দেন। কোনও আরটি-পিসিআর টেস্ট প্রয়োজন নয় বলেও মন্তব্য করেন। যা ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
সব কিছুর বিচারে তীরথকে বাদ দেওয়াই সমীচীন মনে করেন বিজেপি নেতারা। তাতে উত্তরাখণ্ডে দলের ফাঁক স্পষ্ট হলেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top