থানায় হাজিরা দিতে হবে ভারতে টুইটারের প্রধানকে, জানাল পুলিশ

twitter.jpg

Onlooker desk: ভিডিয়ো কলে নয়। সশরীর হাজির হয়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতে হবে তাঁকে। ভারতে টুইটারের (Twitter) প্রধানকে এমন কথাই জানাল উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) পুলিশ। বৃহস্পতিবার থানায় হাজির হতে হবে ভারতে টুইটারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মণীশ মাহেশ্বরীকে।
গাজিয়াবাদে এক মুসলিম বৃদ্ধকে হেনস্থার ঘটনার সূত্রে এই জিজ্ঞাসাবাদ। টুইটারের (Twitter) আরও এক আধিকারিককে ওই দিন ডেকেছে পুলিশ। তিনি হলেন ভারতের রেসিডেন্ট গ্রিভ্যান্স অফিসার ধর্মেন্দ্র চতুর। তদন্তকারীদের দাবি, এই দু’জন অফিসারই টুইটারে এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্টের জন্য দায়ী। তাঁদের হাজির হতে হবে গাজিয়াবাদের কাছে লোনি বর্ডার থানায়।
নোটিসে তেমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। তারা লিখেছে — কর্তৃপক্ষ বলা সত্ত্বেও আপনারা কিছু টুইট সরাতে পারেননি। ভারতের আইন আপনাদের জানা। এবং তা মানতে আপনারা বাধ্য।
গাজিয়াবাদের (Ghaziabad) ঘটনার সূত্রে গত সপ্তাহে অভিযোগ দায়ের করা হয়। বেশ ক’জন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’, কংগ্রেসের ক’জন নেতা এবং টুইটারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগ ধর্মীয় উস্কানিমূলক টুইটের।
গাজিয়াবাদের বাসিন্দা, বৃদ্ধ আব্দুল সামাদের অভিযোগ, কিছু লোক তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। তারপরে বেধড়ক মারধর করে। জয় শ্রীরাম এবং বন্দেমাতরম বলতে বাধ্য করায়। সামাদের অভিযোগ, দলটির দাবি, তারা মুসলিমদের সঙ্গে এমনটাই করে বলে জানায়।
কিন্তু পুলিশের বক্তব্য, এই অভিযোগ ঠিক নয়। সামাদ কিছু মাদুলি বিক্রি করেছিলেন। একদল তরুণের অভিযোগ, সেগুলি ছিল ভুয়ো। তাই হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে ছ’জনের একটি দল তাঁকে আক্রমণ করে। এখানে কোনও সাম্প্রদায়িক ব্যাপার নেই।
যদিও সামাদ ও তাঁর পরিবার আগাগোড়া পুলিশের এই বক্তব্য খারিজ করছে। নিগৃহীতের ছেলে বাবলু সৈফি বলেন, ‘বাবা তাবিজ-কবচ বিক্রি করেন না। আমাদের পরিবারের কেউ তা করেন না। আমরা পেশায় ছুতোর। পুলিশ ঠিক বলছে না। ওরা তদন্ত করে নিজেদের বক্তব্য প্রমাণ করুক।’
গত শুক্রবার মাহেশ্বরীকে সাত দিনের মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হয়। গাজিয়াবাদের কাছে লোনি বর্ডার থানায় ডাকা হয় তাঁকে। কিন্তু ভারতে টুইটার-প্রধান জানান, এর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও যোগ নেই। তার পরে তিনি ভিডিয়ো কলে উপস্থিত হওয়ার কথা বলেন। কিন্তু পুলিশ সশরীর হাজিরাতে অনড়।
অনলাইন নিউজ প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম নিয়ে নতুন আইন তৈরি করেছে কেন্দ্র। তার পরে এটাই কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা। টুইটার (Twitter) এই নিয়ম পুরোপুরি মানেনি বলে অভিযোগ। গাজিয়াবাদের ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ গত সপ্তাহেই মুখ খোলেন। তাঁর দাবি, এতেই প্রমাণ হয়, টুইটার কেমন ভুয়ো খবর ছড়ায়।
এডিটর্স গিল্ড ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সরব হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top