গ্রেপ্তার তৃণমূলের ১১ নেতা-কর্মী, ত্রিপুরা পৌঁছে থানায় অবস্থানে অভিষেক

Abhishek-Banerjee-Tripura2.jpg

Onlooker Desk: দলীয় নেতা-কর্মীদের উপরে হামলার প্রেক্ষিতে রবিবার ত্রিপুরা (Tripura) পৌঁছলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
এ দিনই ভোররাতে দলের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে খোয়াই থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কোন অভিযোগে তাঁদের ধরা হয়েছে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আপাতত সেখানে অবস্থান করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। রয়েছেন ব্রাত্য বসু, দোলা সেনরাও। থানা বাইরে থেকে ঘেরাও করে রেখেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে রবিবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা থেকে ত্রিপুরায় (Tripura) তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি আশিসলাল সিংহকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের বক্তব্য, তাঁদের বিরুদ্ধে মহামারী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ দিন সকালে ত্রিপুরা (Tripura) পৌঁছন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। শনিবার হামলার খবর পেয়ে প্রথমে ব্রাত্য বসু ও কুণাল ঘোষকে দ্রুত পৌঁছতে বলেন। পরে জানান, তিনি নিজেও যাবেন ত্রিপুরায় (Tripura)।
রবিবার অভিষেক (Abhishek Banerjee) পৌঁছনোর পরেই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় একদল বিজেপি কর্মী। কালো পতাকা, গো-ব্যাক স্লোগান — কিছুই বাদ ছিল না। বিক্ষোভ পেরিয়ে থানায় পৌঁছন অভিষেক।
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমে এ দিন অভিষেক বলেন, ‘বিজেপি ত্রিপুরাকে (Tripura) নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত করেছে। বিপ্লব দেব ভাবছেন, তাঁর কাছ থেকে ভিসা নিয়ে তবে রাজ্যে পা রাখতে পারবেন বিরোধীরা। যাঁরা বড় বড় ভাষণ দেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন, তাঁদের হাতে ত্রিপুরার গণতন্ত্রের কী অবস্থা, রাজ্যবাসী তা দেখছেন। যাঁরা এঁদের চ্যালেঞ্জ করছে, তাঁদের ধরে ধরে জেলে ঢোকানো হচ্ছে।’
পরে থানায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যায়, থানার বাইরে জড়ো হয়ে থাকা বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে না কেন, সে প্রশ্ন তুলছেন অভিষেক। ওসিকে তিনি বলেন, ‘আপনি অশোকস্তম্ভ কাঁধে নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলছেন। পদ্মফুল নয়। ভুলে যাবেন না।’
এরপরে প্রশ্ন তোলেন, কার অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে? পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তৃণমূলের কর্মীদের গ্রেপ্তার করলে বিজেপির ঘেরাওকারীদের কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে? তাঁর সঙ্গে সুর মেলান ব্রাত্য, কুণাল, দোলারা।
শনিবার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মারধর, ইট ছোড়া, গাড়ি ভাঙচুরে বিজেপির গুন্ডাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। তার পরেই দ্বৈরথে জড়িয়ে পড়ে দুই দল। ত্রিপুরায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অবরোধ হঠাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।
হামলার ঘটনার নিন্দা করে সিপিএম-ও। তবে বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে। ত্রিপুরায় তৃণমূল ‘কোনও ব্যাপারই নয়’ বলে যাবতীয় দাবি খারিজ করে তারা। ত্রিপুরায় বিজেপির মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘তৃণমূলের কর্মীদের হঠাৎ আমাদের দলের লোকজন আক্রমণ করতে যাবে কেন? ওই দলটি তো আমাদের যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বীই নয়। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও একটি আসন জয়ের ক্ষমতা নেই তৃণমূলের।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top