দেশে তৃতীয় ঢেউ হয়তো দ্বিতীয়র মতো ভয়াবহ হবে না, বলছে সমীক্ষা

IMG-20210531-WA0018.jpg

Onlooker desk: করোনার তৃতীয় ঢেউ সম্ভবত দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো এত ভয়ঙ্কর হবে না। আইসিএমআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ) এবং ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একটি মডেলিং স্টাডি অনুযায়ী এমনটাই মনে করা হচ্ছে। লাগাতার টিকাকরণ চলছে। যার জেরে ভাইরাসের পরবর্তী সংক্রমণ তুলনায় অনেকখানি কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব ঘটে ২০২০-র জানুয়ারির শেষে। সে বছর সেপ্টেম্বরে পিকে পৌঁছয় সংক্রমণ। তার পরে সংক্রমণ ধীরে ধীরে বেশ খানিকটা কমে যায়। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউ অনেক দ্রুত ও অনেক ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। এর পিছনে মূলত দায়ী করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট। প্রবল সংক্রামক এই ভ্যারিয়ান্ট গত ক’মাসে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।
ইংল্যান্ড, আমেরিকার মতো দেশে ইতিমধ্যেই হাজির হয়েছে তৃতীয় ঢেউ। এবং অনেকগুলি বিষয়ের উপরে তার প্রকোপ নির্ভর করছে। ওই যৌথ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো ভয়াবহ না-ও হতে পারে থার্ড ওয়েভ। বিশেষত, যে পরিমাণ সংক্রমণ দেশে ইতিমধ্যেই হয়েছে, তারপরে ফের এতখানি প্রকোপের আশঙ্কা কমই।
কারণ ইতিমধ্যেই বহু মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাকে ভেদ করে সংক্রমণ ঘটাতে গেলে ভাইরাসকেও তেমনই জোরালো হতে হবে। সাধারণত যে কোনও ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের ক্ষেত্রে তেমনটাই দেখা যায়। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের আর্টিকলের আর্টিকলেও তেমনই ইঙ্গিত।
সমীক্ষায় জানা যাচ্ছে, তৃতীয় ঢেউয়ের এতখানি দাপটের জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ প্রয়োজন। যেমন, ইতিমধ্যে সংক্রামিতদের অন্তত ৩০ শতাংশের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হতে হবে শূন্য। অথবা ভাইরাসের প্রজনন হার হতে হবে ৪.৫। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ৪ থেকে ৫ জনকে সংক্রামিত করতে পারবেন। এবং এর পুরোটাই হতে হবে দ্বিতীয় ঢেউ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।
তা ছাড়া, দেশজুড়ে চলছে টিকাকরণ। তার সূত্রেও সংক্রমণের ভয়াবহতা অনেকখানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তবে দ্বিতীয় ঢেউ শেষের তিন মাসের মধ্যে ৪০ শতাংশ জনসংখ্যার টিকাকরণ সম্পন্ন হতে হবে। সে ভাবেই ভ্যাকসিনের জোগান রাখতে বলা হয়েছে।
তবে মাস্ক পরা, ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার শর্ত মানতে হবে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে — লকডাউন শিথিলের পদ্ধতি তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তা ছাড়া, লকডাউনে সংক্রমণ কতখানি নিয়ন্ত্রণ হয়েছে, তা-ও দেখা দরকার। বিশেষত যে সব এলাকায় দ্বিতীয় ঢেউয়ের শুরুতে, চূড়ায় পৌঁছনোর আগেই লকডাউন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top