৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের নির্দেশ সব বোর্ডকে, সুপ্রিম-প্রশ্নের মুখে অন্ধ্র প্রদেশ

Supreme-Court-of-India.jpg

সুপ্রিম কোর্ট

Onlooker desk: সব বোর্ডকেই ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করতে হবে। আজ, বৃহস্পতিবার এ কথা জানাল সুপ্রিম কোর্ট। তার আগে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করতে হবে। সে জন্য আগামী ১০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
সিবিএসই, আইসিএসই-সহ দেশের বহু রাজ্য বোর্ড করোনায় পরীক্ষা বাতিল করেছে। কিন্তু অন্ধ্র বোর্ড আগামী মাসে দ্বাদশের পরীক্ষা নেবে। তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তারা জানিয়েছে, পরীক্ষার কারণে একটিও মৃত্যু হলে দায়ী থাকবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে।
জুনের গোড়ায় সিবিএসই, আইসিএসইকে মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে দু’সপ্তাহ সময় দেয় আদালত। দুই বোর্ডই বিকল্প পদ্ধতি জানিয়েছে ইতিমধ্যে। তাতে সায় দিয়েছে সর্বোচ্চ কোর্ট। তাদেরও আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ফল বের করতে হবে।
এ পর্যন্ত ২১টি রাজ্য বোর্ড দ্বাদশের পরীক্ষা বাতিল করেছে। যারা তা করেনি, তাদের আগেই চিঠি পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
কিন্তু অন্ধ্র প্রদেশ উল্টো পথে হাঁটছে। তারা পরীক্ষা নেবে। এ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি এ এম খানউইলকর ও বিচারপতি দীনেশ মাহেশ্বরীর এজলাসে। আজ, বৃহস্পতিবার এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।
বেঞ্চ বলে — একজনেরও যদি মৃত্যু হয়, তা হলে আমরা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের নির্দেশদিতে পারি। অন্যান্য বোর্ড তো বাতিল করেছে। তা হলে অন্ধ্র প্রদেশ নিজেকে ব্যতিক্রমী দেখাতে চাইছে কেন? অনেক রাজ্য মৃতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে। অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষেত্রেও আমরা এই অঙ্ক বজায় রাখতে পারি।
করোনার প্রবল আশঙ্কার মধ্যে ক্লাসরুমে হাজির হয়ে পরীক্ষার কী প্রয়োজন, সে প্রশ্ন তোলে কোর্ট। বেঞ্চের প্রশ্ন — বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্যান্য বোর্ড। একটি নতুন প্রজাতি এসেছে, ডেল্টা প্লাস। সেটা কেমন প্রভাব ফেলবে, কেউ জানে না। কে এই পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল? কোনও মাপকাঠিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো?
রাজ্যের পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর পরে একটি নোট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত। কে বা কারা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সকলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না, সে সব জানাতে বলে।
দ্বাদশের পরীক্ষা বাতিলের আর্জিতে এই মামলা দায়ের হয়েছে। কাল, শুক্রবার ফেল শুনানি হবে।
অন্ধ্র বোর্ড মঙ্গলবার জানায়, কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তাই তারা পরীক্ষা নেবে। কোর্টের নির্দেশে বুধবার হলফনামা জমা দেয় রাজ্য। সেখানে তারা জানায়, বিকল্প কোনও মূল্যায়ন পদ্ধতি নেই। তারা জানিয়েছে, স্কুলের অভ্যন্তরীণ নম্বরে রাজ্য শিক্ষা পর্ষদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। তার ভিত্তিতে দ্বাদশের নম্বর ঘোষণা যথাযথ হবে না। অন্যান্য বোর্ড অবশ্য অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ফল তৈরি করছে।
রাজ্যে মোট স্কুলঘরের সংখ্যার বিস্তারিত হিসাবও দিয়েছে অন্ধ্র সরকার। তারা জানিয়েছে, দূরত্ব বজায় রাখতে ঘরে ১৫ থেকে ১৮ জন পড়ুয়াকে বসানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top