কোভিড বিধি মেনেই বিয়ে সারলেন মমতা ব্যানার্জি, পাত্র সোশ্যালিজম

images-2.jpeg

Onlooker desk: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাম দলগুলির সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়। কিন্তু তামিলনাড়ুর সালেমের মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে ‘সোশ্যালিজম’-এর সখ্য ভালোই। কোভিড-বিধি মেনে অনাড়ম্বর ভাবে গাঁটছড়াই বেঁধে ফেললেন তাঁরা।
বস্তুত, পাত্রী মমতা ব্যানার্জি ও পাত্র সোশ্যালিজমের বিয়ের কার্ড দিনতিনেক আগে ভাইরাল হয়। তখনই বিষয়টা নজর কাড়ে সকলের। আর আজ, রবিবার চার হাত এক হয়েছে।
সালেমের পি মমতা ব্যানার্জি ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক। তাঁর পরিবার কংগ্রেস সমর্থক। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা যখন কংগ্রেসের লড়াকু নেত্রী, তখন তাঁর জন্ম। সেই সূত্রেই বাড়ির লোক মেয়ের নাম রেখেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু নামের যে ঠিক কী মানে, সেটা অনেক বড় বয়স পর্যন্ত জানতেন না মেয়ে। সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ক্লাস টেনে পড়ি, তখন বন্ধুদের কাছে নিজের নামের প্রেক্ষাপটটা জানতে পারি। এখন এ নিয়ে আমি খুব গর্বিত। ওঁকে (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) অনেক বার খবরে দেখেছি।’
রুপোলি পর্দার পছন্দের তারকাদের নামে ছেলেমেয়ের নাম রাখা নতুন কিছু নয়। তাঁদের মতো সাজগোজ, আচার-আচরণেও নিজেদের অভ্যস্ত করে তোলেন অনেকে। আবার, নাম রাখার ক্ষেত্রে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও অনেক পরিবারকে প্রভাবিত করেছেন বলে বিভিন্ন সময়ে জানা গিয়েছে। কিন্তু এ ভাবে একেবারে পদবী-সহ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গোটা নামটাই সন্তানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার নজির বেশ বিরল।
অন্যদিকে, বছর ২৯-এর পাত্র সোশ্যালিজম পি মমতা ব্যানার্জির আত্মীয়। তিনি বি কম পাশ এবং রুপোর গয়নার ব্যবসা করেন। তাঁর পরিবার আবার বামপন্থী। সোশ্যালিজমের বাবা এ মোহন সালেমের সিপিআই ইউনিটের জেলা সম্পাদক। সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ভেঙে পড়ছে, তখন তিনি ছেলের নাম রাখেন সোশ্যালিজম। মোহনের আরও দুই ছেলে আছেন। তাঁদের নামের সঙ্গেও জুড়ে রয়েছে ‘ইজম’। একজনের নাম কমিউনিজম, অন্যজন লেনিনিজম। বৃদ্ধ জানিয়েছেন, বিয়ের আগে থেকেই তিনি স্থির করে রেখেছিলেন সন্তানদের এ রকম নাম রাখবেন।
কিন্তু সেই নাম যে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের নেত্রীর সঙ্গে জুড়ে যাবে, সেটা আর কার জানা ছিল? রবিবার বিয়ের ওই সাদামাঠা অনুষ্ঠানে সোশ্যালিজম অবশ্য জানান, রাজনৈতিক মতাদর্শের ফারাক বা নামের ব্যঞ্জনা তাঁদের বৈবাহিক জীবনে ছাপ ফেলবে না। তাঁর কথায়, ‘আমরা একে অন্যকে পেয়ে খুব খুশি। ভালো-মন্দ সব সময়ে আমরা একসঙ্গে থাকব। যত ঝড়ঝঞ্ঝাই আসুক, আমাদের আলাদা করতে পারবে না।’
তামিলনাড়ু সিপিআইয়ের নেতা আর মুথারাসন এবং তিরুপ্পুর থেকে দলের সাংসদ কে সুব্বারায়ন বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top