দায়িত্ব বাড়ল শাহের, বড়সড় রদবদলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কে কোন মন্ত্রক পেলেন?

amit-shah.jpg

Onlooker desk: নতুন করে ৪৩ জন মন্ত্রী শপথ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় এখন ৭৭ জন সদস্য। এই ৪৩ জনের মধ্যে একেবারে নতুন মুখ ৩৬টি।
দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পরে বুধবার প্রথম মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটিয়ে তা পুনর্গঠন করেন মোদী। নতুন মন্ত্রিসভায় এসসি, এসটি এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। পাশাপাশি বেড়েছে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব।
এই ৩৬ জনের মধ্যে আটজন আইনজীবী, চারজন চিকিৎসক, দু’জন প্রাক্তন আমলা এবং চারজন এমবিএ ডিগ্রিধারী। এ ছাড়াও একাধিক ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন।
নতুন মুখের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণেই একদল সাংসদ গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। জ্যোতিরাদিত্যর হাত ধরেই মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা দখল সম্ভব হয় বিজেপির। এই এমবিএ ডিগ্রিধারী নেতাকে দেওয়া হয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।
অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এতদিন ছিল হরদীপ সিং পুরীর হাতে। তিনি পেয়েছেন পেট্রোলিয়াম ও নগরোন্নয়ন।


নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছেন মনসুখ মাণ্ডব্য। গুজরাটের এই সাংসদ পেশায় ব্যবসায়ী। পাশাপাশি চাষবাস, সামাজিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। বছর ৪৯-এর মনসুখ সড়ক পরিবহণ, হাইওয়ে, রাসায়নিক ও সার এবং জাহাজ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী থেকেছেন।
অশ্বিনী বৈষ্ণবকে দেওয়া হয়েছে রেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কমিউনিকেশন। ১৯৯৪ ব্যাচে ওডিশা ক্যাডারের আইএএস তিনি। ১৯৯৯-এর সুপার সাইক্লোনে তাঁর দক্ষতা সকলের নজর কাড়ে। পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ ডিগ্রি ছাড়াও তিনি আইআইটি কানপুরের ইঞ্জিনিয়ার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দায়িত্ব বেড়েছে। তাঁকে দেওয়া হয়েছে মিনিস্ট্রি অফ কো-অপারেশন। এই মন্ত্রকটি নতুন তৈরি করা হয়েছে।
অনুরাগ ঠাকুরকে দেওয়া হয়েছে ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়ার মতো দু’টি মন্ত্রক।
ভূপেন্দ্র যাদব হয়েছেন নতুন শ্রমমন্ত্রী। এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনও তাঁর দায়িত্বে।
পীযূষ গোয়েল কমার্স। স্মৃতি ইরানিকে দেওয়া হয়েছে শিশু ও নারীকল্যাণ মন্ত্রক। নতুন শিক্ষামন্ত্রী হচ্ছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রক নিজের হাতেই রেখেছেন মোদী।
প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন কিরেণ রিজিজু। তাঁকে দেওয়া হয়েছে আইন মন্ত্রকের দায়িত্ব।
কাল, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নতুন ক্যাবিনেট ও কাউন্সিলের বৈঠকে বসার কথা।
এ দিকে, বুধবার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগে ইস্তফা দেন হর্ষ বর্ধন, রমেশ পোখরিয়াল, প্রকাশ জাভড়েকর, রবিশঙ্কর প্রসাদের মতো হেভিওয়েটরা। তাই নতুন মন্ত্রীদের নাম জানার আগে জোর চর্চা শুরু হয় এঁদের ইস্তফা ঘিরে।
এঁদের মধ্যে হর্ষ বর্ধন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী চৌবেকে সরিয়ে সরকার কোভিড অতিমারীতে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ করোনা মোকাবিলা নিয়ে যথেষ্ট মুখ পুড়েছে কেন্দ্রের। আন্তর্জাতিক স্তরেও এ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। হর্ষ ও অশ্বিনীকে সরিয়ে সরকার কার্যত সেই সমালোচনাতেই শিলমোহর দিল বলে অনেকের মত।
সদ্যপ্রাক্তন আইটি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদকে ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল। নতুন তথ্যপ্রযুক্তি আইন নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষার ব্যাপারে নানা প্রশ্ন ওঠে। টুইটারের সঙ্গে লাগাতার বিরোধ চলছে তাঁর। সম্প্রতি কিছুক্ষণের জন্য তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধও করে দেওয়া হয়।
তবে প্রকাশ জাভড়েকরের ইস্তফা নিয়ে বেশ প্রশ্ন উঠেছে। এ নিয়ে অনেকে বিস্মিতও। কারণ প্রাক্তন এই পরিবেশ মন্ত্রী ছিলেন সরকারের মুখপাত্র। কোন বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কী বয়ান দেওয়া হবে, বহু বছর ধরে তিনিই সেটা ঠিক করে এসেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top