রাজনীতিতে আসছেন না, নিজের সংগঠন গোটালেন রজনীকান্ত

Rajinikanth.jpg

Onlooker desk: স্বাস্থ্যের কারণে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন আগেই। এ বার তাঁর সংগঠন রজনী মাক্কাল মন্দ্রম-ও গুটিয়ে ফেললেন সুপারস্টার রজনীকান্ত। রাজনীতিতে না-ফেরার সিদ্ধান্তে যে তিনি অনড়, সেই বার্তাই দিলেন থালাইভা। সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে শেষ বৈঠকে বছর ৭০-এর রজনীকান্ত বলেন, ‘ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার কোনও পরিকল্পনা আমার নেই।’
রজনী মাক্কাল মন্দ্রম বা পিপল’স ফোরামের জন্ম ২০১৮-য়। তার নাম বদলে করা হচ্ছে রজনীকান্ত রসিগার নারপানি মন্দ্রম বা রজনীকান্ত ফ্যানস ওয়েলফেয়ার ফোরাম। অভিনয়েই পুরোদস্তুর মনোনিবেশ করতে চান প্রবীণ অভিনেতা।
রজনীকান্ত রাজনীতিতে আসবেন কি না, তা নিয়ে তিন দশকের জল্পনা। সংগঠন তৈরির পরে মনে করা হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হল সম্ভবত।
কিন্তু ডিসেম্বরেই রজনী জানিয়েছিলেন, রাজনীতিতে তিনি যোগ দেবেন না। তামিলনাড়ুর নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। কোভিড-সঙ্কটের মধ্যেই মার্চ-এপ্রিল মাসে ভোট হয় তামিলনাড়ুতে। তার আগে ব্লাড প্রেশারের সমস্যার কারণে অল্পদিনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন রজনীকান্ত। যার কিছুদিন বাদে তাঁর একটি ছবির শুটিংয়ে ক্রু মেম্বারদের অনেকের কোভিড ধরা পড়ে।
এর পরে একটি বিবৃতি জারি করেছিলেন তারকা অভিনেতা। সেখানে তিনি লেখেন — অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারব না। এই সিদ্ধান্ত নিতে যে আমার কতটা কষ্ট হচ্ছে, সেটা একমাত্র আমিই জানি। তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ না করলেও আমি মানুষের পাশে দাঁড়াব। আমার ভক্তদের ও আমজনতাকে এই সিদ্ধান্ত হতাশ করবে জানি। কিন্তু দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।
তার পরেও অবশ্য ভক্তরা থামেননি। দিকে দিকে প্রতিবাদ হয়। পোস্টার পড়ে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশের দাবিতে। কিন্তু রজনী এ সব থামানোর অনুরোধ করেন। তাঁকে যাতে আর পীড়া দেওয়া না-হয়, সেই আবেদন করেন।
অনেকেই মনে করেন, রজনী রাজনৈতিক দল তৈরি করলে তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফল অন্য রকম হত। তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেও বিজেপির কেউ কেউ সমর্থনের জন্য তাঁর দ্বারস্থ হন।
বিজেপির জোটসঙ্গী এআইএডিএমকে এবার হেরে গিয়েছে। সে জায়গায় এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে জিতে ক্ষমতায় এসেছে ডিএমকে। ১০ বছর পর তামিলনাড়ুর ক্ষমতা ডিএমকে-র হাতে গিয়েছে। আর এক সুপারস্টার তথা রাজনীতিক কমল হাসান ভোটে লড়েও দাগ কাটতে পারেননি। তাঁর দল একটি আসনও জেতেনি।
রাজনীতিতে রজনীর ক্যারিশমা অপরীক্ষিত। তবে বলা হয়, ১৯৯৬-এ তাঁর একটি মন্তব্যে উল্টে গিয়েছিল তামিলনাড়ুর রাজনীতির পাশা। থালাইভা বলেছিলেন, ‘জয়ললিতাকে ক্ষমতায় ফেরানো হলে স্বয়ং ঈশ্বরও তামিলনাড়ুকে বাঁচাতে পারবেন না।’ সে বার এআইএডিএমকে পর্যদুস্ত হয়েছিল। ক্ষমতা দখল করেছিল ডিএমকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top