লন্ডনের পর্ন-সংস্থার সঙ্গে যোগ ছিল শিল্পা শেঠির স্বামী রাজ কুন্দ্রার: পুলিশ

Polish_20210720_015333601.jpg

Onlooker desk: রাজ কুন্দ্রার সঙ্গে ইংল্যান্ডের পর্ন চক্রেরও যোগ ছিল। বুধবার মুম্বই পুলিশ এ কথা জানিয়েছে। ব্যবসায়ী এবং বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী রাজকে সোমবার পর্নোগ্রাফি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার পুলিশ জানায়। রাজের একটি সংস্থা লন্ডনের সংস্থার সঙ্গে কাজ করত। ভারতের জন্য পর্নোগ্রাফি তৈরি হত সেই সংস্থায়। সেটি আবার রাজের এক আত্মীয়ের সংস্থা।
মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হয় রাজ কুন্দ্রাকে। তাঁকে আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় কোর্ট।
রাজের সংস্থা বিয়ান ইন্টাস্ট্রিজরে সঙ্গে লন্ডনের কেনরিন সংস্থার টাই-আপ ছিল। পর্নোগ্রাফিক অ্যাপ হটশটস-এর মালিকানা কেনরিনের। ওই সংস্থাটি লন্ডনের ঠিকই। কিন্তু কনটেন্ট তৈরি, অ্যাপের অপারেশন এবং অ্যাকাউন্টিং, সবই চলত রাজের বিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের মাধ্যমে। মুম্বই পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মিলিন্দ ভারাম্বে একটি সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান। কেনরিনের মালিক রাজ কুন্দ্রার শ্যালক।
পুলিশের হাতে এই দুই সংস্থার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কথা, ই-মেল চালাচালি ইত্যাদি প্রমাণ এসেছে। এ ছাড়া অ্যাকাউন্টিংয়ের বিস্তারিত তথ্য এবং বেশ কিছু পর্ন ছবিও পাওয়া গিয়েছে রাজের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে। যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘প্রমাণ হাতে আসার পরেই আমরা রাজ কুন্দ্রা ও তাঁর সংস্থার আইটি প্রধান রায়ান থর্পে-কে গ্রেপ্তার করি। এই মামলায় তদন্ত চলছে।’
কিন্তু মামলার চার্জশিট তো এপ্রিলেই দাখিল করা হয়। তা হলে গ্রেপ্তারিতে এত বিলম্ব হল কেন? যুগ্ম কমিশনার জানান, শক্তিশালী কেস তৈরি করতে হলে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক প্রমাণ স্ক্যান করা প্রয়োজন ছিল। সেই কাজেই সময় লেগেছে। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে টাকা ট্রান্সফারের হদিস মিলেছে। আর এই র্যা কেটে যাঁদের জোর করে আনা হত, সেই ভুক্তভোগীরা পেতেন মাত্র কয়েক হাজার টাকা। এ পর্যন্ত এই সূত্রে সাড়ে সাত কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে পুলিশ।
মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ দায়িত্ব নেওয়ার আগে এ নিয়ে মহারাষ্ট্র সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের হয় বলে যুগ্ম কমিশনার জানিয়েছেন। দু’জন মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে মালওয়ানি পুলিশ এফআইআর লেখে। আর এক মহিলা অভিযোগ দায়ের করেন মুম্বই থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে লোনাভালায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে মালওয়ানির অভিযোগের পর মুম্বই পুলিশ বিষয়টির তদন্তে নামে।
যুগ্ম কমিশনার জানিয়েছেন, উঠতি অভিনেতাদের ওয়েব সিরিজ বা শর্ট ফিল্মে কাজের লোভ দেখাত চক্রটি। তার পরে অডিশনে ডেকে ‘সাহসী’ দৃশ্যে অভিনয় করতে বলত। সেগুলিই পরে ন্যুড বা সেমি ন্যুড দৃশ্যে পরিণত হত। কিন্তু এর পুরোটাই চলত অভিনেতাদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে, জোর করে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top