রাহুল-পিকে-অভিষেকদের ফোনেও আড়ি! তালিকায় আর কারা?

Polish_20210719_194352323.jpg

Onlooker desk: সাংবাদিকদের পরে এ বার একে একে সামনে আসছেন রাজনীতিক ও রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা। পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যারে (Pegasus Spyware) তাঁদের ফোনেও আড়ি পাতার পরিকল্পনা ছিল। অনেকের ক্ষেত্রে আড়ি পাতাও হয় বলে অভিযোগ। কে নেই সেই তালিকায়!
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা। এমনকী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, প্রহ্লাদ প্যাটেলরাও রয়েছেন তালিকায়। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন যে কর্মচারী, তাঁর নামও রয়েছে তালিকায়।
‘দ্য ওয়্যার’ জানিয়েছে, রাহুল গান্ধীর দু’টি ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে ৩০০ ভারতীয়র তালিকায়। তাঁর পাচজন বন্ধু ও পরিচিতও আছেন। প্রশান্ত কিশোর পরে সংবাদমাধ্যমে জানান, পাঁচ বার হ্যান্ডসেট বদলেছেন তিনি। তাতেও হ্যাকারদের হাত থেকে রেহাই মেলেনি।
তবে তালিকায় নাম থাকলেই আড়ি পাতা হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। আড়ি পাতা হয়েছে কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট স্মার্টফোনটির ফরেন্সিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বেশ কিছু ফোনের ফরেন্সিক তদন্ত হয়েছে। তাতে আড়ি পাতার অভিযোগ অনেকাংশে প্রমাণিতও। তবে রাহুল গান্ধীর ফোন দু’টির ফরেন্সিক পরীক্ষা হয়নি। তিনি ওই দু’টি নম্বর আপাতত ব্যবহার করছেন না বলে খবর।
২০১৯-এ রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন এক কর্মচারী। ২০১৮-র ডিসেম্বরে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। ২০১৯-এর ২০ এপ্রিল হলফনামায় নিজের অভিযোগ জানান ওই তরুণী। তাঁর নিজের তিনটি, স্বামী ও দুই দেওর মিলিয়ে মোট ১১টি নম্বরকে রাখা হয়েছিল তালিকায়।
তালিকায় আছেন অশোক লাভাসা। ২০১৯-এর লোকসভার প্রচারে নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙেছেন বলে একমাত্র তিনিই সরব হয়েছিলেন।
তালিকায় নাম থাকা, সদ্য তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর পদে বসা অশ্বিনী বৈষ্ণবের অবশ্য দাবি, ভারতীয় গণতন্ত্র ও তার প্রতিষ্ঠানগুলিকে বদনাম করতেই এই উদ্যোগ। সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন রিপোর্টও ভুয়ো ও ভিত্তিহীন বলে অভিযোগ তাঁর। লোকসভায় সোমবার তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, বিরোধী দলের যে বন্ধুরা দীর্ঘদিন সরকারে থেকেছেন, তাঁরা প্রোটোকল ভালো ভাবেই জানেন। আমাদের আইন ও বিপুল সব প্রতিষ্ঠানের ফাঁক গলে যে বেআইনি ভাবে আড়ি পাতা সম্ভব নয়, সেটা তাঁরা অবশ্যই বুঝবেন।’ অমিত শাহও এই রিপোর্টের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
এমনকী, সোমবার বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে, রবিবার রাতে কেন পেগ্যাসাস-বিতর্ক সামনে আনা হল, সে প্রশ্নও তুলছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top