পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যারে ৪০ সাংবাদিকের ফোনে আড়ি? অভিযোগ ওড়াল সরকার

Pegasus-spyware-scandal.jpg

Onlooker desk: ৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিকের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ সামনে এল রবিবার। অজ্ঞাতপরিচয় কোনও সংস্থা ইজরায়েলি পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যার (Pegasus spyware) ব্যবহার করে এই নজরদারি চালিয়েছে বলে খবর। মন্ত্রী থেকে বিরোধী নেতাদের ফোনেও আড়ি পাতা হয় বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যার সরকার ছাড়া কারও কাছে থাকার কথা নয়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই সাংবাদিকদের উপরে নজরদারির অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তাদের বক্তব্য, ‘নির্দিষ্ট কিছু লোকের উপরে সরকারি নজরদারির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পেগ্যাসাস ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপেও নজরদারির অভিযোগ উঠেছে অতীতে। সেই অভিযোগগুলিরও কোনও ভিত্তি ছিল না। হোয়াটসঅ্যাপ-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত এই অভিযোগ অস্বীকার করে।’ সেই যুক্তিতেই তাদের দাবি, সাম্প্রতিক নজরদারির অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ভারতীয় গণতন্ত্র ও তার নানা প্রতিষ্ঠানকে বদনাম করার লক্ষ্যেই এ কথা বলা হচ্ছে বলে মন্ত্রকের দাবি।
মন্ত্রক যা-ই বলুক, বাস্তব অন্য কথা বলছে। ওই তালিকায় নাম থাকা বেশ ক’জন সাংবাদিকের ফোনে পেগ্যাসাস ম্যালওয়্যারের হদিস মিলেছে। ফরেন্সিক টেস্টে তা প্রমাণিতও হয়েছে।
পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যার তৈরি করে ইজরায়েলের এনএসও গোষ্ঠী। ডিভাইস হ্যাকিংয়ে এই গোষ্ঠী পারদর্শী। গোপনে নজরদারি চালাতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে সহযোগিতা করে তারা।
বেশ ক’টি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই সাংবাদিকরা প্রধানত হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়া টুডে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং নেটওয়ার্ক ১৮-এর সঙ্গে জড়িত। এঁদের অনেকেই প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন ও কাশ্মীর সংক্রান্ত সংবাদের সঙ্গে জড়িত। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য সাংবাদিক হলেন শিশির গুপ্তা, প্রশান্ত ঝা, রাহুল সিং, সন্দীপ উন্নিথান, মনোজ গুপ্তা, বিজয়িতা সিং এবং জে গোপীকৃষ্ণন। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়্যার’-এর দাবি, তাদের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক সিদ্ধার্থ বরদারাজন এবং এম কে বেণুর ফোনেও আড়ি পাতা হয়েছে।
ফরাসি সংস্থা ফরবিডেন স্টোরিজ এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রথম এই তালিকার হদিস পায়। তারপরে সেটি ‘দ্য ওয়্যার’কে জানানো হয়। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আরও ১৫টি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয় এই খবর। যা ‘পেগ্যাসাস প্রজেক্ট’ নামে একটি যৌথ তদন্তের অংশ। উল্লেখ্য, তালিকায় নাম থাকা মানেই আড়ি পাতা প্রমাণিত হয় না। ‘পেগ্যাসাস প্রজেক্টে’ সম্ভাব্য টার্গেটদের কথা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।
তবে ‘দ্য ওয়্যার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০টি ভারতীয় ফোনে একক ভাবে ডিজিট্যাল ফরেন্সিক বিশ্লেষণ চালানো হয়। ওই নম্বরগুলি তালিকায় ছিল। দেখা গিয়েছে, হয় সেগুলিতে আড়ি পাতা হয়েছে। নয়তো আড়ি পাতার চেষ্টা হয়েছে।
২০১৯-এ পেগ্যাসাসের মাধ্যমে আড়ি পাতার অভিযোগ ওঠে। সে বার তা সামনে এনেছিল হোয়াটসঅ্যাপ। সাংবাদিকদের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের উপরেও নজরদারির অভিযোগ উঠেছিল সে বার।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top