ব্রেকফাস্ট-বৈঠকে কেন্দ্রকে আক্রমণে আলোচনা বিরোধীদের, সাইকেলে চড়ে সংসদে রাহুল

Polish_20210803_132308380.jpg

Onlooker desk: ট্র্যাক্টরের পর এ বার সাইকেল। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাইকেলে চড়ে সংসদে গেলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। যোগ দেন আরও বেশ ক’জন বিরোধী নেতা। পাশাপাশি পেগ্যাসাস, কৃষক আন্দোলন, করোনা মোকাবিলা-সহ একগুচ্ছ বিষয়ে সরকারের উপর চাপ বাড়াতে ব্রেকফাস্ট-বৈঠকেও (Breakfast meet) বসে বিরোধী দলগুলি (opposition)।
ওই বৈঠকে রাহুল (Rahul Gandhi) বলেন, ‘সংসদে সাইকেল চালিয়ে গেলে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। দেশের মানুষ কষ্টে রয়েছেন…।’ বিরোধী নেতার একত্রে বসে ব্রেকফাস্ট (Breakfast meet) করছেন, এমন ছবিও টুইট করেন রাহুল (Rahul Gandhi)।
তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে। শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, ডিএমকে-র কানিমোঝি-সহ বেশ ক’জন বিরোধী (opposition) নেতানেত্রী এ দিনের ব্রেকফাস্ট বৈঠকে (Breakfast meet) যোগ দেন। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর টুইটে লেখেন — এখানে বেশ বিরল একটি দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
আপ অবশ্য এ দিনের বৈঠকে যোগ দেয়নি। আপের সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেন, ‘বৈঠকে (Breakfast meet) যোগ দেওয়া বা না-দেওয়াটা বড় কথা নয়। সংসদে আলোচনা হলেই আমরা কৃষকদের সমর্থন করব। এবং পেগ্যাসাস আড়ি পাতা বিতর্কে সরব হব।’
এই বিরোধী বৈঠকের প্রায় একই সময়ে বিজেপির সংসদীয় পার্টির বৈঠক ছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফের সংসদ অচল করার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেন। আগে তিনিএ জন্য সরাসরি কংগ্রেসের নাম করে বিঁধেছিলেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘বিরোধীরা সংসদ চলতে দিচ্ছে না। এটা দেশের জনতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননাকর।’
বিরোধীরা যাতে প্রতিবাদের তীব্রতা কমায়, সে জন্য রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে সোমবার ফোন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং। কিন্তু রাজনাথকেও কংগ্রেসের এই সাংসদ আলোচনায় বসার কথাই জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
গত ১৯ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। ১০৭ ঘণ্টার মধ্যে দুই কক্ষ মিলিয়ে ১৮ ঘণ্টা কাজ হয়েছে। গত শনিবার সরকার দাবি করেছে, এর জেরে করদাতাদের ১৩৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, পেগ্যাসাস আড়ি পাতা বিতর্ক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হোক। আড়ি পাতার টার্গেট লিস্টে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi), ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দু’জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পর্যন্ত রয়েছেন।
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি প্রথম দিকে বিষয়টিকে গুরুত্বই দিতে চায়নি। পেগ্যাসাস বিতর্ককে ‘নন-ইস্যু’ বলে প্রথমে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। সরকারের দাবি, পেগ্যাসাস আড়ি পাতা কাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। পেগ্যাসাস সফ্টওয়্যারের ইজরায়েলি নির্মাতা সংস্থা এনএসও-ও জানিয়েছে, এর সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই।
সংসদে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব একটি বিবৃতি পাঠ করেন। কিন্তু বিরোধীরা (opposition) তাতে সন্তুষ্ট নয়। তারা চায়, এ নিয়ে আলোচনায় বসুক কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top