ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার শুনানি তাঁর সামনে নয়, সুপ্রিম কোর্টে অব্যাহতি চাইলেন বিচারপতি

Indira-Banerjee.jpg

Onlooker desk: পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার মামলা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেই মামলার শুনানি থেকে অব্যাহতি চাইলেন বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আমার সামনে এই মামলার শুনানি হবে না।’
বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি এম আর শাহের ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছে মামলাটি। নির্বাচনের পরে হিংসায় মারা গিয়েছেন বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সরকারের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি হওয়ার কথা ওই বেঞ্চে। অভিযোগ, তৃণমূলের হাতে খুন হয়েছেন অভিজিৎ। তদন্তভার সিট বা সিবিআইয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন মামলাকারী। আরও এক হত বিজেপি কর্মীর পরিবারেরও এক দাবি।
এই মামলা শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। তখনই বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এর শুনানি করতে আমার কিছু সমস্যা আছে।’ প্রসঙ্গত, বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার বাসিন্দা। এর জেরে মামলাটি স্থগিত হয়ে যায়। এ বার তা অন্য বেঞ্চে যাবে। যেখানে বিচারপতি বন্দ্যোপাধ্যায় নেই।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটি আগামী মঙ্গলবার শুনানির আবেদন জানান। কিন্তু প্রিসাইডিং বিচারপতিই ‘রিকিউজ’ করছেন। তা হলে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা এই বেঞ্চের পক্ষে ঠিক হবে না। সে কারণে পরবর্তী দিন স্থির হয়নি।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ছড়িয়েছে। এ নিয়ে প্রবল শোরগোল ফেলেছে বিজেপি। আবার কোথাও কোথাও তাদের কর্মীরাও অভিযুক্ত। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের দাবি, অশান্তির সব ঘটনাই নির্বাচন পরবর্তী হিংসার নয়। এই মামলা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তাই তা খারিজ করা হোক। এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তারা জানায়।
বিচারপতি বিনীত শারণ ও বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের ভ্যাকেশন বেঞ্চে মামলা উঠেছিল। ওই বেঞ্চ ২৫ মে-র মধ্যে পাল্টা হলফনামা দিতে বলে রাজ্যকে। তার প্রেক্ষিতেই এ সব জানিয়েছে সরকার।
মামলাকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে এই মামলায় যোগ করা হয় আরও কিছু সংস্থাকে। তারা হলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, জাতীয় মহিলা কমিশন, জাতীয় এসসি-এসটি কমিশন এবং জাতীয় শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন।
বিশ্বজিৎ দাবি করেন, বিশেষ তদন্তকারী দল গড়ে কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত হোক। এই মামলার অন্য আবেদনকারী প্রয়াত হারান অধিকারীর স্ত্রী। হারান ছিলেন বিজেপির বুথকর্মী।
গত ২ মে নির্বাচনের ফল বেরোয়। বিপুল ভাবে জেতে তৃণমূল। তারপরেই এত হিংসা কেন, সে ব্যাপারেও তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top