অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর খবর জানায়নি কোনও রাজ্যই, সংসদে জানাল কেন্দ্র

no-death-reported-due-to-oxygen-shortage.jpg

প্রতীকী চিত্র

Onlooker desk: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অক্সিজেনের অভাবে কারও মৃত্যু হয়েছে, এমন কথা কোনও রাজ্যই নির্দিষ্ট ভাবে তাদের জানায়নি। আজ, মঙ্গলবার রাজ্যসভাকে এ কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার।
অথচ দ্বিতীয় ঢেউয়ে মেডিক্যাল অক্সিজেনের চাহিদা লাগামহীন ভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথম ঢেউয়ের শীর্ষে অক্সিজেনের দৈনিক চাহিদা ছিল ৩,০৯৫। সে জায়গায় দ্বিতীয় ঢেউয়ের শীর্ষে তা পৌঁছয় ৯ হাজার মেট্রিক টনে। এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে হয় কেন্দ্রকে। রাজ্যগুলির মধ্যে অক্সিজেনের সমবণ্টনের ব্যবস্থা করে কেন্দ্র।
সংসদে এ দিন প্রশ্ন করা হয়, দ্বিতীয় ঢেউয়ে রাস্তায় বা হাসপাতালে কি অনেক মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছেন? এর জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ভারতী প্রবীণ পাওয়ার জানান, স্বাস্থ্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিষয়। তারা নিয়মিত এ ব্যাপারে কেন্দ্রকে রিপোর্ট দেয়।
লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান — সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মৃত্যুর রিপোর্ট সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তা মেনেই সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নিয়মিত রিপোর্ট দেয় কেন্দ্রকে। তবে অক্সিজেনের অভাবে কারও মৃত্যু হয়েছে বলে কোনও রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই জানায়নি।
তবে অক্সিজেনের চাহিদা যে বহু গুণ বেড়েছিল, সে কথা জানিয়েছেন ভারতী। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ‘অসাধারণ’ তৎপরতার উল্লেখ করেছেন তিনি। লিখিত জবাবে বলা হয়েছে — রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক বা উৎপাদনকারী-সহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রেক্ষিতে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে অক্সিজেন বণ্টনের ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র।
রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংক্রামিতের সংখ্যাই অক্সিজেন বণ্টনের প্রধান শর্ত হিসাবে দেখা হয়। এ ছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার হার, চিকিৎসা পরিকাঠামো ইত্যাদির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কোনও এক জায়গায় স্থির না থেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতর সঙ্গে তাল মিলিয়ে অক্সিজেনের বণ্টনে বদল আনা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জানানো হয়েছে, অক্সিজেন বণ্টনের প্রথম অর্ডার ইস্যু করা হয় ১৫ এপ্রিল। পরে সংক্রমণের হার ও গতি-প্রকৃতির বিচারে তা বদলানো হয়। ২৮ মে বিভিন্ন রাজ্যে ১০,২৫০ মেট্রিক টন অক্সিজেন বণ্টন করা হয়।
রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কেন্দ্রও অক্সিজেন জোগানে যাবতীয় ব্যবস্থা করে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তার মধ্যে লিকুইড অক্সিজেনের উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে কন্টেনারের সহজলভ্যতা, সবই রয়চে। অনলাইন পদ্ধতিতেও অক্সিজেন সঙ্কটের মোকাবিলার চেষ্টা হয়েছে বলে এ দিন সংসদে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top