কমবে টেক হোম পে, ছাঁটাইয়ের সংস্থানও প্রসারিত, পিএফে বাড়তি দায় সংস্থাগুলির, জেনে নিন নতুন শ্রমবিধি

RUPEE.jpg

Onlooker desk: আর কয়েক মাসের মধ্যেই দিনের আলো দেখবে নতুন শ্রমবিধি (লেবার কোড)। কেন্দ্রীয় সরকার যত দ্রুত সম্ভব এই বিধি কার্যকরে উৎসাহী। এবং সেটা হলে কর্মচারীদের টেক-হোম পে, অর্থাৎ বেতনের যে অংশ তাঁরা হাতে পান, সেটা কমে সংস্থাগুলির উপরে প্রভিডেন্ট ফান্ডের (পিএফ) দায় বাড়বে। কারণ নতুন বিধিতে বেসিক পে এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের হিসাবের পদ্ধতিই যাবে বদলে।
পাশাপাশি, ৩০০ জন কর্মচারী নিয়ে যে ফার্মগুলি চলে, সেগুলি সরকারের অনুমতি ছাড়াই ছাঁটাই, সঙ্কোচন এমনকী ব্যবসা বন্ধও করে দিতে পারবে। বর্তমানে ১০০ জন নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই ছাড় রয়েছে।
নতুন মজুরি বিধিতে ৫০ শতাংশের বেশি অ্যালাওয়্যান্স দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ কর্মচারীর মোট বেতনের অর্ধেক হবে বেসিক মজুরি। এর উপরেই শতাংশের বিচারে প্রভিডেন্ট ফান্ড হিসাব করা হয়। সংস্থাগুলি প্রভিডেন্ট ফান্ড কম করতে শ্রমিকের মজুরিকে নানাবিধ অ্যালাওয়্যান্সে ভাগ করে বেসিক ন্যূনতম রাখার পথ ধরে অনেক সময়েই। এতে আয়করও ফাঁকি দেওয়া যায়। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই সংস্থান থাকবে না। বেতনের ৫০ শতাংশের উপরে হিসাব করতে হবে পিএফ। নতুন নিয়ম কার্যকর হয়ে গেলেই কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় সংশোধন ঘটাতে হবে সংস্থাগুলিকে। তাতে কর্মচারীদের টেক-হোম পে যেমন কমবে, তেমনই পিএফে দায় বাড়বে সংস্থাগুলির।
২০২১-এর এপ্রিল থেকে চারটি বিধি কার্যকর করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস, মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ। ৪৪টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইনে প্রভাব ফেলবে এই বিধিগুলি। বিষয়টি অনেকখানি এগিয়ে গেলেও বহু রাজ্যের এক্তিয়ারেই এই বিধি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারির সংস্থান নেই। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী শ্রম যৌথ তালিকাভুক্ত বিষয়। সে কারণে রাজ্য ও কেন্দ্র, উভয়কেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বিধিগুলিকে আইনে পরিণত করতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘অনেক বড় রাজ্যই নতুন বিধি মেনে আইন তৈরি করেনি এখনও। অনেক রাজ্যে আবার কাজ চলছে। কিন্তু কেন্দ্র তো সে জন্য সারা জীবন অপেক্ষা করতে পারে না। কে কারণেই কয়েক মাসের মধ্যে নতুন কোড কার্যক করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সংস্থাগুলিকেও নতুন নিয়মের সঙ্গে পরিচিত হতে কিছুটা সময় দিতে হবে।’ উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ওডিশা, পাঞ্জাব, গুজরাট, কর্নাটক এবং উত্তরাখণ্ডে অবশ্য খসড়া বিধি তৈরি করে সার্কুলেট করা হয়েছে বলে খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top