উত্তরাখণ্ড তো নতুন মুখ্যমন্ত্রী পেল, তাতে কি অনিশ্চিত হলো মমতার ভবিষ্যৎ?

Polish_20210703_190125104.jpg

Onlooker desk: উত্তরাখণ্ডের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন পুষ্কর সিং ধামি। চার মাসে এই নিয়ে তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী পেল উত্তরাখণ্ড। শুক্রবার রাতে ইস্তফা দেন আগের মুখ্যমন্ত্রী তীরথ সিং রাওয়াত।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হতে হতো তাঁকে। তীরথ বিজেপির সাংসদ। কিন্তু এখন নির্বাচন আয়োজন করলে নির্বাচন কমিশন ফের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তা ছাড়া দলীয় কোন্দলে তীরথের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল ক্ষীণ।
গত ক’দিন দিল্লিতে চক্কর কাটেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে ইস্তফা দেন।
কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে বড় হয়ে উঠছে অন্য একটি প্রশ্ন। তা হলো, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে চাপ বাড়াতেই কি বিজেপির এই চাল? তাঁর ভবিষ্যৎ নড়বড়ে করে রাখাই কি বিজেপির লক্ষ্য?
কেন উঠছে এই প্রশ্ন?
নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে লড়াই করেছিলেন মমতা। সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন তিনি। ভবানীপুর থেকে বিধানসভা উপ-নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর আসন পাকা করতে চান মমতা। ইতিমধ্যেই ওই আসনে ইস্তফা দিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
দ্রুত উপ-নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইতিমধ্যেই তিনি আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মাত্র সাত দিন সময় লাগবে। এমনকী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চাইলেই কমিশন নির্বাচন আয়োজন করবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের কথা বলেও কটাক্ষ করেন।
এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে সাতটি আসনে উপ-নির্বাচন বকেয়া রয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে ইসি কত দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এমন অবস্থায় এই সাংবিধানিক প্রশ্নেই ইস্তফা দিয়েছেন তীরথ। তা হলে কি মমতার উপরেও চাপ বাড়ছে না?
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হাতে অবশ্য ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। তার মধ্যে বিধানসভায় জিতে আসতে হবে তাঁকে। গত ৫ মে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। আর তীরথ নিয়েছিলেন এ বছর ১০ মার্চ।
এ দিকে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেই দেশে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। তাতে উপ-নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশ সঙ্কুচিত। আবার, মার্চ-এপ্রিলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে ভোট করানোয় নির্বাচন কমিশন প্রবল সমালোচিত হয়েছে। বিশেষত মাদ্রাজ হাইকোর্টের তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছে তারা।
তা হলে কি ফের এমন ঝুঁকি নিতে চাইবে কমিশন?
মমতা একা নন। পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকেও নির্বাচনে জিতে আসতে হবে। শোভনদেব বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এ দিকে তিনি মন্ত্রী। তাই জিততে হবে তাঁকেও। অতএব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ভাগ্য আপাতত প্রশ্নের মুখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভবত এই পরিস্থিতি আঁচ করেই মমতা বিধান পরিষদ গঠনে তৎপর হয়েছেন। বিধান পরিষদ বিল বর্তমান বাজেট অধিবেশনে পেশ করা হতে পারে। শুক্রবার যথেষ্ট হইহল্লার মধ্যে দিয়ে সেই অধিবেশনের সূচনা হয়েছে।
কিন্তু বিধান পরিষদ বিল কেবল রাজ্য বিধানসভায় পাশ হলেই চলবে না। সংসদের দুই কক্ষেই তাকে পাশ করতে হবে।
মমতাও ছেড়ে কথা বলার মানুষ নন। উপ-নির্বাচনে বিলম্ব হলে তিনি আইনের পথ ধরতে পারেন। নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তিনি সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top