দেওরের সঙ্গে সম্পর্ক, ‘কাঁটা’ সরাতে শিশুপুত্রকে খুন মা ও কাকার

child-murder.jpg

Onlooker desk: দেওরের সঙ্গে সম্পর্কে বাধা শিশুপুত্র। তাই তাকে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেওয়া হোক। দেওরের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সন্তানকে হত্যার অভিযোগে শিশুটির মা ও কাকাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
রবিবার গুজরাটের আহমেদাবাদ গ্রামীণ এলাকার বিরামগাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দু’জনকে। ধৃতদের নাম জ্যোৎস্না প্যাটেল ও রমেশ প্যাটেল।
প্রায় তিন বছর ধরে হার্দিক নামে ওই শিশু ‘নিখোঁজ।’ ২০১৮-র সেপ্টেম্বর থেকে তার খোঁজ মিলছে না। এবং যে দিন থেকে সে নিরুদ্দেশ, সে দিনই পুলিশে ডায়েরি করা হয় পরিবারের তরফে।
বিরামগাম গ্রামীণ থানায় আট বছর বয়সি হার্দিককে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে জানানো হয়, শিশুটি মিষ্টি কিনতে বেরিয়ে আর ফেরেনি। আহমেদাবাদ রুরাল পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।
তাদের দাবি, জ্যোৎস্নার সঙ্গে তার দেওর রমেশের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। হার্দিক তা জানতে পেরে যায়। সে কারণেই তাকে সরানোর ছক কষে দু’জনে মিলে।
এ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে আহমেদাবাদ রুরাল পুলিশ। সেখানে তারা লিখেছে — মায়ের সঙ্গে কাকার সম্পর্কের কথা জানতে পেরে যায় হার্দিক। জ্যোৎস্না ও রমেশ তাতে ভয় পায়। স্বামী জগদীশ প্যাটেলকে ছেলে সব বলে দেবে বলে আতঙ্কে ভুগতে থাকে জ্যোৎস্না। পাশাপাশি পরিবারের অন্যদের এবং গ্রামের লোকের কাছেও এ কথা বলে দিতে পারে ছেলে।
তাই শিশুটিকে পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে মা ও কাকা। ২০১৮-র ২৮ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে জালামপুরার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ফাঁকা খেতে নিয়ে যাওয়া হয়। গলা টিপে তাকে হত্যা করে দেহ জ্বালিয়ে পুঁতে দেয় দু’জনে।
এর কিছুদিন বাদে ফের ওই জায়গায় যায় রমেশ। ছেলেটিকে যেখানে পোঁতা হয়েছিল, সেখানকার মাটি সরিয়ে দেহাবশেষ বের করে। সেগুলিকে নিয়ে গিয়ে কাছেই গ্রামের একটি নর্দমায় ফেলে দেয়। যাতে কোনও চিহ্ন না থাকে।
দুই অভিযুক্তকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন এবং প্রমাণ লোপাটের ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দু’জনেই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
কিন্তু পুলিশ বিষয়টি জানতে পারল কী করে? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ছেলেটিকে অপহরণ করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ হয়েছিল, তার তদন্ত শুরু করেছিলেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে পরিবারের লোক এবং জালামপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাতেই প্রথম সন্দেহ হয় তাঁদের।
দেখা যায়, জ্যোৎস্না ও রমেশের বক্তব্যে নানা অসঙ্গতি। অথচ দু’জনেই ঘটনার সময় বাড়িতে ছিল বলে দাবি। তা থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top