বেসরকারি হাসপাতালে গত মাসের বরাদ্দ থেকে পড়ে রয়েছে টিকার ১ কোটি ডোজ

corona-vaccine1.jpg

Onlooker desk: টিকার আকালে গোটা দেশ সঙ্কটে। বহু মানুষ সময় পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে সামনে এল এমন এক তথ্য যা কেবল ভয়াবহই নয়, দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দায়িত্বজ্ঞান ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়ার মতোও।
সরকারি তথ্যে জানা গিয়েছে, গত মাসে দেশের বেসরকারি হাসপাতালের মোট ভ্যাকসিন ডোজের মাত্র ১৭ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। অব্যবহৃত অবস্থায় থেকে গিয়েছে বিপুল পরিমাণ টিকা। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, গত মাসে দেশজুড়ে মোট ৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভ্যাকসিনের ডোজ সংগ্রহ করা হয়েছিল। যার মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লক্ষ ডোজ নির্দিষ্ট করা হয় বেসরকারি হাসপাতালের জন্য। নির্দিষ্ট করা টিকার ১.২৯ কোটি ডোজ সংগ্রহ করে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। যার মধ্যে মাত্র ২২ লক্ষ ডোজ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে টিকার ১ কোটিরও বেশি ডোজ। এ সপ্তাহের গোড়াতেই কেন্দ্র বেসরকারি হাসপাতাল থেকে নিতে গেলে কোভিডের কোন টিকার জন্য কত দাম দিতে হবে, তা বেঁধে দিয়েছে। কারণ বিরোধীদের অভিযোগ, বেসরকারি হাসপাতালগুলি ভ্যাকসিন নিয়েও ব্যবসা করবে।
গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, দেশে ১৮ ঊর্ধ্ব সকলকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হবে। সে জন্য ৭৫ শতাংশ টিকা কিনে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। বাকি ২৫ শতাংশ কিনবে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। সেই টিকার প্রতি ডোজের দাম নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্র। তারা জানিয়েছে, কোভিশিল্ডের প্রতি ডোজের সর্বোচ্চ দাম ৭৮০ টাকা, রুশ টিকা স্পুটনিক ভি-এর ১,১৪৫ টাকা এবং কোভ্যাক্সিনের ১,৪১০ টাকা। এর মধ্যেই কর ও হাসপাতালের ১৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ ধরা রয়েছে।
আগামী ২১ জুন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে নতুন টিকা নীতি কার্যকর করা হবে। সরকারি সমস্ত হাসপাতালে টিকা দেওয়া হবে বিনামূ্ল্যে।
মে মাসে ঘোষিত টিকা নীতি নিয়ে ব্যাপক ভাবে মুখ পোড়ে কেন্দ্রের। কারণ সেখানে ৪৫ ঊর্ধ্বদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়ার কথা বলা হলেও ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সিদের থেকে দাম নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। দুই বয়সের মানুষদের জন্য টিকার নীতি কেন দু’রকম, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। একে ‘হঠকারী ও যুক্তিহীন’ নীতি বলেও ভর্ৎসনা করা হয়। বিরোধীরা আবার এই প্রশ্ন তুলে সরব হয় যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে যেখানে টিকা দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে, সে জায়গায় মোদী সরকার কেন সেই পথ ধরবে না? দেশে এ পর্যন্ত টিকার ২৪ তোটি ডোজ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top