গ্রহণযোগ্যতা-জনপ্রিয়তায় ভাটা, ‘চ্যালেঞ্জের’ মুখে মোদী: আন্তর্জাতিক সমীক্ষা

WhatsApp-Image-2021-05-20-at-12.52.23-PM.jpeg

Onlooker desk: করোনা মহামারী মোকাবিলায় তাঁর ও তাঁর সরকারের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে বহু। এ বার আন্তর্জাতিক দু’টি সমীক্ষায় দেখা গেল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর গ্রহণযোগ্যতা কমেছে ব্যাপক হারে। মার্কিন ডেটা ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ‘মর্নিং কনসাল্ট’ বিশ্বের এক ডজন নেতার উপরে সমীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। ২০১৯-এর অগস্ট থেকে মোদীর গ্রহণযোগ্যতা ট্র্যাক করছে বা তার উপরে নজর রাখছে এই সংস্থা। তাদের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এই মুহূর্তে নমোর গ্রহণযোগ্যতা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে। যা এ যাবৎ সর্বনিম্ন।
২০১৪-য় বিপুল জনপ্রিয়তা ও গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯-এও তখ্ত দখলে রাখেন মোদী। জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতাও ছিল অটুট। বস্তুত, তিন দশকে যে কোনও রাজনৈতিক নেতার তুলনায় বেশি ভোটে, একজন জাতীয়তাবাদী নেতার ভাবমূর্তি নিয়ে ২০১৯-এ পুনর্নির্বাচিত হন মোদী। কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা।
এ সপ্তাহে দেশে মোট কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই কোটি পেরিয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, টিকাকরণে যে দেশের কোনও প্রস্তুতিই ছিল না, কোবিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সেটা স্পষ্ট হয়েছে। এবং তাতেই ধস নেমেছে মোদীর বিপুল জনসমর্থনের জমিতে। সবচেয়ে বেশি পতন হয়েছে এপ্রিল মাসে।
ভারতীয় ভোটিং এজেন্সি ‘সিভোটার’-এর সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে, মোদীর কাজে ‘অত্যন্ত সন্তুষ্ট’ মানুষের হার ৬৫ থেকে ৩৭ শতাংশে নেমেছে এক বছরে। গত সাত বছরে এই প্রথম মোদী সরকারের কাজে অসন্তুষ্টের সংখ্যা সন্তুষ্ট জনতার চেয়ে বেশি বলে উঠে এসেছে সমীক্ষায়। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা যশবন্দ দেশমুখ একটি সংবাদসংস্থাকে বলেন, ‘কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী।’
শয্যার আকাল, অক্সিজেনের অভাব, বাড়ন্ত টিকা, মৃত্যুর মিছিল, অন্ত্যেষ্টির জায়গাটুকু না-পাওয়া — এ সবের পিছনে সার্বিক ভাবে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন আমজনতা। মোদীর গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা হ্রাসের পিছনে এটাই অন্যতম বড় কারণ। দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে এখন কোনওমতে সংক্রমণে একটু লাগাম পরানো গেলেও গ্রামীণ অঞ্চলে থাবা বসিয়েছে করোনা। সেখানে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো একেবারেই দুর্বল।
বিরোধীরা এই সুযোগে সুর চড়িয়েছে মোদীর বিরুদ্ধে। কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম ইতিমধ্যেই বলেছেন, ‘ভারতের জনগণ বুঝে গিয়েছেন যে নিজেদের এবং পরিবার-বন্ধুদের সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।’ মোদী অবশ্য জানিয়েছেন, মহামারী রুখতে তাঁর সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top