১৮ ঊর্ধ্ব সকলকে বিনামূল্যে টিকা, ৮০ কোটি মানুষকে ফ্রি রেশন, ঘোষণা মোদীর

IMG-20210603-WA0003.jpg

Onlooker desk: আগামী ২১ জুন থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকলকে বিনামূল্যে টিকা দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। আজ, সোমবার জাতীয় উদ্দেশে ভাষণে এ কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, মোট উৎপাদিত টিকার ৭৫ শতাংশ কেন্দ্র প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির কাছ থেকে কিনে নেবে এবং রাজ্যগুলিকে তা দেবে বিনামূল্যে। বাকি ২৫ শতাংশ টিকা বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া হবে। সে জন্য দাম দিতে হবে। রাজ্যগুলির ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই টিকার ক্ষেত্রে এই বিকেন্দ্রীকরণের নীতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মোদী।
এ ছাড়া, রাজ্যের টিকাকরণের ২৫ শতাংশ দায়িত্বও কেন্দ্র বহন করবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আগামী দু’সপ্তাহে এই ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে। এই দু’সপ্তাহে নতুন নির্দেশিকা মেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে রাখবে কেন্দ্র ও রাজ্য।’ পাশাপাশি বলেন, ‘টিকার জন্য রাজ্যগুলিকে কিছুই ব্যয় করতে হবে না। দেশের কোটি কোটি মানুষ বিনামূল্যে টিকা পেয়েছেন, এ বার ১৮-র বেশি বয়সিরাও সেই দলে সামিল হবে। একমাত্র ভারত সরকারই দেশের সমস্ত নাগরিককে বিনামূল্যে টিকা দেবে।’
বিরোধীরা বারবারই দাবি করেছে, কেন্দ্র দেশবাসীকে বিনামূল্যে টিকা দিক। ৪৫ ঊর্ধ্ব এবং ১৮ থেকে ৪৪, এই দুই বয়সের মানুষের টিকাকরণে পৃথক নীতি নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখেও পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অবশেষে সকলের জন্য ফ্রি টিকার পথই ধরল মোদী সরকার।
পাশাপাশি, দিওয়ালি পর্যন্ত ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মোদী। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনার সময়সীমা দিওয়ালি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
করোনাকে গত ১০০ বছরে সবচেয়ে বড় অতিমারী এবং আধুনিক পৃথিবী এমন ঘটনা আগে দেখেন বলে মন্তব্য করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী এই বিশাল অতিমারীর সময়ে আমাদের দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লড়াই চালিয়েছে। সেটা ভেন্টিলেটর তৈরি করাই হোক বা ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা — যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করেছে দেশ।’ এক বছরে দেশে করোনার দু’টি টিকা তৈরি হয়েছে। সরকারও টিকার উৎপাদনে সবরকম সহযোগিতা করেছে বলে তাঁর দাবি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘আমাদের দেশের মানুষ এবং বিজ্ঞানীরা দেখিয়ে দিয়েছেন যে ভারত বড় দেশগুলির তুলনায় কোনও অংশে পিছিয়ে নেই। আজ যখন আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি, এর মধ্যে দেশবাসীকে ভ্যাকসিনের ২৩ কোটি ডোজ দেওয়া হয়ে গিয়েছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘গত ৫০-৬০ বছরের ইতিহাসে চোখ রাখলে দেখবেন, বিদেশ থেকে টিকা পেতে ভারতের কয়েক দশক লেগে যেত। বিদেশে ভ্যাকসিনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলেও আমাদের দেশে তার প্রক্রিয়া পর্যন্ত শুরু হতো না।’ দেশের টিকার আকাল নিয়ে দেশ-বিদেশের নানা ক্ষেত্রের মানুষ বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন। তবে মোদীর দাবি, ‘ভাবুন, ভারতে যদি টিকা তৈরি না-হতো, তা হলে এত বড় একটা দেশের কী হতো!’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top