হাথরস কাণ্ডে কেরালার সাংবাদিক কাপ্পান-সহ চার জনের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গের ধারা খারিজ

Siddique-Kappan.jpg

Onlooker desk: হাথরসে (Hathras) খবর সংগ্রহে যাওয়ার সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তাঁদের। কেরালার সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানের (Siddique Kappan) গ্রেপ্তারি ঘিরে তোলপাড় কম হয়নি। মথুরার আদালতে শান্তিভঙ্গের ধারা থেকে মুক্তি পেলেন কাপ্পান-সহ ধৃত চার জন। তাঁদের বিরুদ্ধে এই মামলা খারিজ করার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। যার জেরে খানিক মুখ পুড়ল যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকারের।
গত বছর অক্টোবরে হাথরসে (Hathras) এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। তা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। সেই খবরই সংগ্রহে যাচ্ছিলেন কাপ্পান। কিন্তু তিনি চরমপন্থী দল পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার (পিএফআই) সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এই অভিযোগে কাপ্পান (Siddique Kappan) ছাড়াও ধরা হয় তাঁর তিন বন্ধুকে। তাঁরা হলেন, আতিকুর রহমান, আলম এবং মাসুদ। প্রাথমিক ভাবে শান্তিভঙ্গের অভিযোগে কাপ্পানদের (Siddique Kappan) ধরা হয়। পরে কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
চার জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ, ইউপিএ ভঙ্গ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ধারা দেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার শান্তিভঙ্গের ধারা থেকে তাঁদের মুক্তি দেয় কোর্ট। প্রসঙ্গত, এই ধারাতেই গত অক্টোবরে গ্রেপ্তার করা হয় চার জনকে। অভিযুক্তদের আইনজীবী মধুবন দত্ত চতুর্বেদী এ কথা জানান। নির্ধারিত ছ’মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। তবে দেশদ্রোহ ও ইউএপিএ সংক্রান্ত মামলা এখনও রয়েছে।
গ্রেপ্তারির পর থেকে সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেননি কাপ্পান (Siddique Kappan)। কিন্তু মঙ্গলবার মথুরা আদালত থেকে বেরোনোর সময় প্রকাশ্যে কথা বলেন তিনি। কাপ্পান (Siddique Kappan) বলেন, ‘আমি বিচার চাই। সংবিধানে আমার আস্থা আছে। কিন্তু বিচারে বিলম্ব হচ্ছে। সমস্ত অভিযোগ মিথ্যে। এ সমস্ত ভুয়ো কেস।’ কাপ্পান জানান, এই কেসের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে। একে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকারের একনায়কতন্ত্র বলে মত ধৃতদের।
কাপ্পানের (Siddique Kappan) গ্রেপ্তারির পর থেকেই তাঁর মুক্তির দাবিতে চলছে লড়াই। তাতে সামিল কেরালা ইউনিয়ন অফ ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস। এবং কাপ্পানের স্ত্রী। বারবারই তাঁরা জানিয়েছেন, মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। প্রথমে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় ধরা হয় চার জনকে। পরে ইউএপিএ-র মতো কঠোর ধারা দেওয়া হয়।
একদিকে যখন ধৃতরা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে তখন পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা বলে আদালত। কোর্ট জানায়, পুলিশ ছ’মাসের মধ্যে প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। পুলিশের অভিযোগ ছিল, কাপ্পান (Siddique Kappan) তাঁর পুরোনো আইডি কার্ড ব্যবহার করছিলেন। সেটি ব্যবহার করেই তিনি হাথরস (Hathras) যাচ্ছিলেন। পথে তাঁকে চরমপন্থী দলের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু কোনও অভিযোগই এ পর্যন্ত প্রমাণ হয়নি।
এ বছর এপ্রিল থেকে জেলে আছেন কাপ্পানরা (Siddique Kappan)। সম্প্রতি কাপ্পানের কোভিড ধরা পড়ে। তাঁকে মথুরার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁর স্ত্রী এবং কেরালা ইউনিয়ন অফ ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস। তাঁরা জানান, কাপ্পানকে বেডের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। শৌচালয়েও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কাপ্পানকে দিল্লির এইমসে পাঠানো হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ফেরানো হয় মথুরা জেলে। অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top