পুনের কারখানায় বিধ্বংসী আগুনে মৃত ১৮, বেশিরভাগই মহিলা

Polish_20210608_002018129.jpg

Onlooker desk: বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হলো ১৮ জনের। পুনের মুলসি তালুকে সোমবার ঘটনাটি ঘটে। মৃতদের বেশিরভাগই মহিলা বলে জানিয়েছেন দমকলের আধিকারিকরা।
এ দিন মুলসি তালুকের পিরানগুটের কাছে এসভিএস অ্যাকোয়া টেকনোলজি নামে ওই কারখানায় দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ আগুন লাগে বলে পুনের গ্রামীণ পুলিশ জানিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুনে মেট্রোপলিটান রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (পিএমআরডিএ) এবং মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (এমআইডিসি) দমকল বাহিনী। প্রাথমিক ভাবে দমকলের ছ’টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে যায়।
পরে দমকলের তরফে নিশ্চিত করা হয়, ঘটনায় ১৮ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই মহিলা।
পিএমআরডিএ-র ফায়ার চিফ দেবেন্দ্র পোটফোড়ে জানান, দুর্ঘটনার সময়ে কারখানার ভিতরে ছিলেন ৩৭ জন কর্মচারী। ১৮ জন মারা যান ও বাকিরা আগুনে জখম হন। প্রবল চেষ্টা সত্ত্বেও আগুন নেভাতে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় তা আয়ত্তে আসে। এলাকা পরিদর্শনে যান পুনের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর রাজেশ দেশমুখ ও সিনিয়র পুলিশকর্তারা। রাজেশ পরে বলেন, ‘নিরাপত্তা বিধিতে কোনও ফাঁক ছিল না, তা খতিয়ে দেখতে মভালের সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট, দমকল ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে তদন্তকারী দল গঠিত হয়েছে।’ পুনে গ্রামীণ পুলিশের সুপার অভিনব দেশমুখ জানান, যে কারখানায় আগুন লাগে, সেটি জল শোধনের জন্য ক্লোরিন ডাইঅক্সাইড ট্যাবলেট তৈরি করে।
সেই কারণে কারখানাটিতে দাহ্য পদার্থ ঠাসা ছিল। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আশপাশ ভরে যায়। যার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। একে করোনার সময়, তার উপরে আগুনের ভয়াবহতায় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। তবে পুনে গ্রামীণ পুলিসের বড় দল গিয়ে ভিড় সরিয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখে। দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আরও কেউ দুর্ঘটনাগ্রস্ত কারখানাটিতে আটকে রয়েছেন কি না, তল্লাশি চালিয়ে তা দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
প্রেস বিবৃতি জারি করে তিনি জানান — ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের চিহ্নিত করা হবে। তার আগে আগুন নেভানো ও জখমদের চিকিৎসাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিস জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেকগুলি দেহের এমন অবস্থা হয়েছে যেগুলিকে কোনও ভাবে চেনা যাচ্ছে না। সম্পূর্ণ দগ্ধ দেহগুলি শনাক্ত করার প্রক্রিয়া জারি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top