টুইটারের টাইমলাইনে একরাশ হতাশা রেখে করোনায় মৃত জামিয়ার অধ্যাপিকা

PROFESSOR.jpg

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অধ্যাপিকা নাবিলা সাদিক

Onlooker desk: একের পর এক বার্তায় ফুটে উঠেছে তাঁর অসহায়তা, উদ্বেগ। শেষে এক বার্তায় একটা শয্যার জন্য এসওএস পাঠিয়েছিলেন টুইটারে। সেটা ৪ মে। সেটুকু পেয়েওছিলেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার অধ্যাপিকা নাবিলা সাদিক। কিন্তু ততক্ষণে বিপজ্জনক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে ফুসফুসের। সোমবার রাতে মারাই গেলেন নাবিলা (৩৮)। টুইটারের টাইমলাইন জুড়ে রেখে গেলেন একরাশ অসহায়তা।
পরপর টুইটেই পরিষ্কার, পজিটিভ হওয়ার পর থেকে কতখানি দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
২৩ এপ্রিল লেখেন — একদিনে বহু পরিচিতের মৃত্যুর খবর
২৪ এপ্রিল — অক্সিজেনের অভাবে পরিচিত, তরুণ মুখগুলো চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন মৃত্যুর খবরে ঘুম ভাঙে। মানসিক ভাবে আর নেওয়া যাচ্ছে না। এর শেষ হবে
২৬ এপ্রিল — আশা করছি শরীর কাল একটু ভালো হবে। সৌভাগ্যক্রমে জ্বর অনেকটা কম। গলাটাই কষ্ট দিচ্ছে।
১ মে — আমার এবং আমার মা-বাবার জন্য প্রার্থনা করুন প্লিজ। আমরা কোনওরকমে এগোচ্ছি
২ মে — এই পরিস্থিতিতে দিল্লিতে অন্তত কেউ আর জীবিত থাকবে না
৪ মে — একটা আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করা যায়? আমার জন্য
৪ মে — পেয়েছি
ব্যাস। এ-ই শেষ। ‘পেয়েছি’র আগে তিনটি হাসপাতালে ঘুরতে হয় নাবিলাকে।
যুবতীর বাবা, ৮৬ বছরের মহম্মদ সাদিক এখন দেওয়ালে টাঙানো দু’টি ছবির দিতে তাকিয়ে থাকেন পলকহীন। একটি সন্তান নাবিলার, অন্যটি স্ত্রী নুঝাতের। ১০ দিনের ব্যবধানে করোনায় মারা গিয়েছেন দু’জন। জামিয়ার এই প্রাক্তন অধ্যাপক বলেন, ‘আমি এখন একজন চলমান শব। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে ভেবেছিলাম, আমার মেয়েটা তো আছে। কিন্তু এখন স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় অধ্যাপিকা নাবিলার ছাত্র ওয়াকার বলেন, ‘দিল্লি-এনসিআর এলাকার প্রতিটি হাসপাতালে আমরা অক্সিজেন-সহ একটা বেডের খোঁজ করেছি। শেষে ফরিদাবাদের ফর্টিসে একটা শয্যার বন্দোবস্ত করে দেন ওঁর বন্ধুরা। কিন্তু ততক্ষণে অক্সিজেনের মাত্রা ৩২-এ নেমে গিয়েছে। চিকিৎসক দেখে বললেন, ফুসফুস প্রচণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত। ওই মহামারীর সময়ে উনি যে আমাদের কতজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বলে বোঝাতে পারব না। মনে হচ্ছে যেন মাকে হারালাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top