দেশ বাঁচাতে টাকা ছাপিয়ে গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করুন, পরামর্শ সরকারকে

Indian-Economy.jpg

Onlooker desk: করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে আরও বেশি করে টাকা ছাপানোর পরামর্শ দিলেন কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কের কর্ণধার উদয় কোটাক। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া এ কাজ করলে চলবে না। নতুন মুদ্রাকে দু’ভাগে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন কোটাক মাহিন্দ্রার চিফ এগজিকিউটিভ। তাঁর মতে, একটা অংশ সমাজের কম আয়ের মানুষের হাতে জোগাতে হবে আর দ্বিতীয়টা রাখতে হবে অতিমারীতে ক্ষতিগ্রস্ত — ক্ষেত্রগুলির চাকরি সুরক্ষিত রাখতে।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদয়ের বক্তব্য, ‘রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের এখন ব্যালান্স শিটের বিস্তৃতি ঘটানো উচিত। নতুন মুদ্রা ছাপানো দরকার বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো দরকার। এর মধ্যে কোনও একটা কাজের সময় এসে গিয়েছে। এখন না হলে এটা কবে করা হবে?’
মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ পর্যন্ত গরিব মানুষদের কাছে সরাসরি নগদ পৌঁছনোর জন্য বরাদ্দ করার পক্ষপাতী কোটাক। টাতাক অঙ্কে যা ১ লক্ষ কোটি থেকে ২ লক্ষ কোটির মধ্যে। এতে অর্থনৈতিক পিরামিডের একেবারে নিচুস্তরে ভোগ বাড়বে। যা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়ক হবে বলে তাঁর মত। এ ছাড়া দরিদ্রতম মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উপরেও জোর দেন তিনি।
প্রথম ঢেউয়ের পর ভারতের অর্থনীতি অনেকখানি ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। জানুয়ারি থেকে ধীরে ধীরে কড়াকড়িতে ছাড় দিয়েছিল সরকার। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ফের বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে অর্থনীতি। কারণ দেশজোড়া লকডাউন না হলেও প্রায় সব রাজ্যই পৃথক ভাবে সে পথেই হেঁটেছে। ফলে ফের ধাক্কা লেগেছে বাণিজ্যে।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলিকেও দু’ভাগে ভাগ করেছেন কোটাক — প্রথমত, যেগুলো কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই ঝড় সামলে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। দ্বিতীয়ত, যে সব পরিষেবার সঙ্গে জড়িত ব্যবসার ধরনই অতিমারীতে আমূল বদলে গিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথম ক্ষেত্রে ব্যবসাগুলিকে বাঁচানোর জন্য যা করার করতে হবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি বেশি কঠিন। তখন ওই সব ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দুর্গতি কমিয়ে বিকল্প রাস্তার সন্ধান করতে হবে। কিন্তু এধরনের ব্যবসার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির উপরে পড়তে দেওয়া যাবে না।’ গত বছর সরকার ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত্রের জন্য যে ঋড়ণের ব্যবস্থা করেছিল, সেটাকেই আরও একটু বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছেন কোটাক।
বেঙ্গালুরুর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, গত বছর অতিমারীর জেরে ২৩ কোটি ভারতীয় দারিদ্রের কবলে পড়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন তরুণ-তরুণীরা। এ বার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা। গত মার্চ থেকে বিভিন্ন রাজ্যের দীর্ঘ লকডাউনে ১০ কোটি মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এঁদের ১৫ শতাংশ এ বছরের মধ্যে আর বিকল্প কাজ পাবেন না বলেও গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top