নৌকাডুবিতে ২০ শিশুর মৃত্যু-স্মরণে পোস্ট করায় কাশ্মীরে সাংবাদিকের নামে FIR

FIR-against-reporter-for-whatsapp-status.jpg

Onlooker desk: ১৫ বছর আগে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছিল ২০ স্কুলপড়ুয়া। ২০০৬-এর সেই ঘটনা স্মরণ করে হোয়াটসঅ্যাপে স্টেটাস দিয়েছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ এক সাংবাদিক। আর তাতেই শান্তি প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করা ও দাঙ্গা লাগানোয় উস্কানির গন্ধ পেয়েছে পুলিশ। বান্দিপোরার একটি স্থানীয় নিউজ এজেন্সির ওই তরুণ সাংবাদিক সাজিদ রায়নার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে তারা। কারণ? ২০০৬-এ উলার লেকে নৌকা উল্টে ২০ শিশুর মৃত্যুর খবরের স্ক্রিনশট তিনি হোয়াটসঅ্যাপের স্টেটাসে শেয়ার করেছেন। এই তাঁর ‘অপরাধ’।
সাজিব বলেন, ‘আমি বারবার পুলিশকে অনুরোধ করি, আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিন। নৌকাডুবিতে ২০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে দেওয়া একটা হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস মাত্র। কিন্তু সে জন্য তারা আমার বিরুদ্ধে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) দায়ের করেছে।’
পুলিশ অবশ্য এফআইআর দায়ের করার পিছনে নিজেদের যুক্তি দিয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযোগ কেবল ২৩ বছরের সাজিদেরই বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তাদের কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু সাজিদের বিরুদ্ধেই বা অভিযোগ কেন? গত ৪ জুন একটি টুইটে পুলিশ লিখেছে — গত ৩০ মে সাজিদ রায়না নামে একজন তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে যে স্টেটাস দিয়েছিলেন, সে জন্য তাঁর বিরুদ্ধে বান্দিপোরায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর নম্বর ৮৪/২০২১। ওই স্টেটাসের বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত হবে।
বছর দুয়েক আগে, ২০১৯-এর অগস্টে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ স্টেটাস বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার। তার পর থেকেই সাংবাদিকরা নানা রকম পুলিশ কেস, ভয় দেখানো ও হেনস্থান শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। সাজিদ জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর দু’বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। কেস থেকে নিজেকে বাঁচাতে ওই পোস্ট ডিলিটও করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পরেও রেহাই মেলেনি। তবে তিনি আশাবাদী। সাজিদ বলেন, ‘বান্দিপোরার এসএসপি বা সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ আমাকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে কেসটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আমি নিশ্চিত পুলিশ আমাকে সুবিচার দেবে এবং এই মামলা তুলে নেবে। আমার ভবিষ্যৎ ও কর্মজীবনের কথা বিবেচনার আবেদন জানাচ্ছি ওঁদের।’
কাশ্মীরে সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে কড়া নজর রাখা হয়। শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে বলে মনে করলেই পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে মামলা দায়ের করে। প্রায় রোজই এমন ঘটনা ঘটে আকছার। গত দু’বছরে এক ডজনেরও বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয় এফআইআর হয়েছে, না হলে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top