গ্রেপ্তারি নিয়ে টুইটার ইন্ডিয়ার প্রধানকে আপাতত স্বস্তি দিল কর্নাটক হাইকোর্ট

Manish-Maheshwari.jpg

Onlooker desk: উত্তর প্রদেশ পুলিশ তাঁকে সশরীর তলব করেছে। এ নিয়ে কর্নাটক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ভারতে টুইটারের প্রধান মণীশ মাহেশ্বরী।
বিচারপতি জি নরেন্দ্রর সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানি হয় আবেদনটির। সেখানে সাময়িক স্বস্তি পেলেন মাহেশ্বরী। হাইকোর্ট জানিয়েছে, গাজিয়াবাদের ঘটনার সূত্রে উত্তর প্রদেশ পর্যন্ত যেতে হবে না মাহেশ্বরীকে। এখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তাঁর বিরুদ্ধে বলপূর্বক কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া যাবে না।
বিচারপতি নরেন্দ্র বলেন — এই বিষয়টিকে আরও ভালো ভাবে দেখা দরকার। তার আগে মাহেশ্বরীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। অর্থাৎ, মাহেশ্বরীকে আগাম জামিন দিল আদালত। এর মধ্যে পুলিশ তদন্ত চালাতে পারবে। তবে তা করতে হবে ভার্চুয়ালি।
এর আগে মাহেশ্বরী কর্নাটক হাইকোর্টকে জানান , দু’দিনে তাঁকে সাক্ষী থেকে অভিযুক্তে পরিণত করেছে পুলিশ। মাহেশ্বরী বেঙ্গালুরুরই বাসিন্দা। তিনি জানিয়েছিলেন, ১৭ জুন তাঁকে সাক্ষী হিসাবে নোটিস পাঠায় পুলিশ। তার দু’দিন বাদে তাঁকে অভিযুক্ত হিসাবে নোটিস ধরানো হয়।
তিনি বলেন — এই অভিযোগের সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। কয়েক জন অভিযুক্ত কিছু ভিডিয়ো আপলোড করেন। আর আমার বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়। আমি অনলাইন হাজিরার প্রস্তাব দিই। কিন্তু পুলিশ আমাকে সশরীর হাজিরা দিতে বলে। গাজিয়াবাদে এক মুসলিমর বৃদ্ধকে হেনস্থাকে কেন্দ্র করে টুইট ঘিরে এই তলব।
বুধবার কোর্টে আবেদনটি দাখিল করেন ভারতে টুইটারের প্রধান। তার আগেই তাঁকে তলব করেছে গাজিয়াবাদ পুলিশ। সাত দিনের মধ্যে পুলিশের সামনে হাজির হতে বলা হয় মাহেশ্বরীকে।
আজ, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় লোনি পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তিনি আসেননি। সার্কেল অফিসার অতুল সোনকর এ কথা জানিয়েছেন।
সোমবার ভিডিয়ো কলে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মাহেশ্বরী। কিন্তু পুলিশ সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। তাঁকে সশরীর হাজিরাই দিতে হবে বলে জানানো হয়। টুইটার ইন্ডিয়ার রেসিডেন্ট গ্রিভ্যান্স অফিসার ধর্মেন্দ্র চতুরকেও তলব করে পুলিশ।
গাজিয়াবাদের ওই বৃদ্ধের নাম আব্দুল সামাদ। তাঁর অভিযোগ, একদল যুবক তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। তাঁকে জয় শ্রীরাম ও বন্দেমাতরম বলতে বাধ্য করা হয়। মারধরের ভিডিয়ো ক্লিপও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পুলিশ পরে দাবি করে, ওই বৃদ্ধ তাবিজ-কবচ বিক্রি করেছিলেন। সেগুলি ভুয়ো বলে অভিযোগ। সে কারণেই একদল যুবক তাঁর উপরে চড়াও হয়। তাদের মধ্যে হিন্দু, মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ই ছিল।
এ দিকে, বৃদ্ধের অভিযোগ জানিয়ে টুইট করায় খড়্গহস্ত হয়েছে পুলিশ। সে কারণে সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম থেকে রাজনৈতিক নেতাদের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি মণীশ ও ধর্মেন্দ্রর নামেও অভিযোগ হয়।
অভিযুক্ত সাংবাদিকরা হলেন রাণা আয়ুব এবং সাবা নকভি। কংগ্রেস নেতা সলমন নিজামি, শামা মহম্মদ এবং মাসকুর উসমানি। তাঁদের টুইটে ভুল বার্তা ও ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ।
এ সপ্তাহের গোড়ায় আয়ুবকে চার সপ্তাহের অ্যান্টিসিপেরটরি বেল দিয়েছে বম্বে হাইকোর্ট। টুইটার ইন্ডিয়াকে কিছু টুইট সরাতে বলা হয়। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে তারা সেই নির্দেশ মানেনি বলে পুলিশের দাবি। সম্প্রতি একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনি অনুরোধের প্রেক্ষিতে ৫০টি টুইট ‘উইথহোল্ড’ করেছে সংস্থা। সব টুইটই ওই ভিডিয়ো ক্লিপ সম্পর্কিত।
তবে পুলিশের দাবি অস্বীকার করেছে সামাদের পরিবার। বৃদ্ধের ছেলে বাবলু সইফি জানান, তাঁদের পরিবারের কেউ কোনওদিন তাবিজ বিক্রি করেননি। তাঁরা পেশায় ছুতোর।
বস্তুত, কেন্দ্রের নতুন নিয়ম পুরোপুরি মানেনি টুইটার। সে কারণে ব্যবহারকারীদের টুইটের দায় থেকে আইনি রক্ষাকবচ হারিয়েছে তারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদও লাগাতার তোপ দেগেছেন টুইটারের বিরুদ্ধে। গাজিয়াবাদের ঘটনা টেনে তাঁর বক্তব্য, টুইটার ভুল তথ্য ছড়ানোয় রাশ টানতে ব্যর্থ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top