সাত মাসে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি জুনে, প্রকাশ সাম্প্রতিক সমীক্ষায়

vegetable-market.jpg

Onlooker desk: সাত মাসের মধ্যে দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ হল জুন মাসে। মূলত খাদ্য ও জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির জেরে। সাম্প্রতিক একটি একটি সমীক্ষায় এ কথা উঠে এসেছে।
বিভিন্ন রাজ্য কড়াকড়ি শিথিল করলেও জোগান এখনও অনেকাংশে ব্যাহত। তার উপরে পেট্রোপণ্যে করের চাপ। যার নিট ফল লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি। এ মাসের ৫ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে ৩৭ জন অর্থনীতিবিদ এই সমীক্ষার ভিত্তিতে জানিয়েছেন, খুচরো পণ্যে মূল্যবৃদ্ধি গত বছরের জুনের তুলনায় এ বার ৬.৫৮ শতাংশ বেশি। মে-তে তা ছিল ৬.৩০ শতাংশ বেশি।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া মূল্যবৃদ্ধির হার ২ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার উপরে জোর দিয়েছিল। ফলে এই সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী চাপ বাড়বে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের উপরে।
অর্থনীতিবিদ কুণাল কুণ্ডুর কথায়, ‘দেশে জ্বালানি তেলের উপরে বিপুল করের চাপ। যার জেরে জুন মাসে পেট্রোপণ্যের দাম এতখানি বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবহণ ক্ষেত্রেও।’
গত বছরের মে-র তুলনায় এ বার জ্বালানি তেলের দাম ৩০ শতাংশ বেশি। এখনই এই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নেই। তাই মূল্যবৃদ্ধিতেও লাগাম পরার আশা কম বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
অর্থনীতিবিদ টুলি ম্যাককালি বলেন, ‘আগামী ক’মাসের জন্য ভারতের মূল্যবৃদ্ধির হার এমনই থাকবে বলে মনে হচ্ছে। দামের উপরে এই চাপ আসছে মূলত জোগানের দিক থেকে।’ তাঁর মতে, চাহিদার দিক থেকে মূল্যবৃদ্ধির কোনও ইঙ্গিত এখনই নেই। তাই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক এ বছর এই মূল্যবৃদ্ধি চলতে দেবে।
করোনার পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বনাম মূল্যবৃদ্ধির ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নজর মূলত থাকে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে। আর মনিটারি পলিসির জুন মাসের বৈঠকের মিনিটস অনুযায়ী, তারা মূল্যবৃদ্ধিতে নজর রাখতে চায়।
অর্থনীতিবিদরা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা জানেন। এবং সেটা স্বীকারও করছেন। তাঁদের বক্তব্য, ‘মূল্যবৃদ্ধির হার এত বেশি হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৃদ্ধিতে মনিটারি পলিসি খুব বেশি নড়াচড়ার সুযোগ পায় না। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিছু অন্তরায় তৈরি হয়।’
পাইকারী মূল্যের সূচক মে মাসে ছিল ১২.৯৪ শতাংশ। গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। জুনে সেটা কিঞ্চিৎ কমে হয়েছে ১২.২৩ শতাংশ। পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদন মে মাসে ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকাঠামোর উন্নতির কারণেই শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদনের ঊর্ধ্বগতি বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top