দেশের বৃহত্তম অস্ত্র জালিয়াতি মামলায় সিবিআই-নজরে জম্মু-কাশ্মীরের আমলারা

arms-license-scam-Jammu-and-Kashmir.jpg

Onlooker desk: আর্মস লাইসেন্স র‍্যাকেটে নাম জড়াল জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) একাধিক প্রাক্তন জেলাশাসকের। এই আইএএস অফিসারদের বাড়িতে তল্লাশিও চালানো হয়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশে তাঁরা সেই ২০১২ থেকে বন্দুকের বেআইনি লাইসেন্স ইস্যু করছেন। আর্মস লাইসেন্স (arms license) তদন্তে শনিবার এই বিস্ফোরক তথ্য জানাল সিবিআই।
দেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র-জালিয়াতি (arms license scam) বলে মনে করা হচ্ছে একে। সিবিআইয়ের দাবি, ২.৭৮ লক্ষেরও বেশি বন্দুকের বেআইনি লাইসেন্স ইস্যু করেছেন অভিযুক্ত জেলাশাসকরা। পুরোটাই হয়েছে টাকার বিনিময়ে।
এ নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) ৪০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তারা। তার মধ্যে ২০টি গান হাউজও রয়েছে। একটি আর্মস-লাইসেন্স (arms license scam) চক্রের সন্ধানে এই তল্লাশি।
যে সব জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়, তার মধ্যে রয়েছে দু’জন আইএএস অফিসারের বাড়ি। একজন হলেন শাহিদ ইকবাল চৌধুরি। অন্যজন নীরজ কুমার। এঁদের মধ্যে শাহিদ বর্তমানে ট্রাইবাল অ্যাফেয়ার্সের সচিব। জম্মু-কাশ্মীরের (J&K) ছ’টি জেলায় জেলাশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। যদিও শাহিদের দাবি, তাঁর বাড়ি থেকে অপরাধমূলক কিছু উদ্ধার হয়নি। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে যে অনিয়ম হয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন শাহিদ।
আর্মস-লাইসেন্স (arms license scam) চক্রটির কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০১৭ সালে। রাজস্থান পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড বা এটিএস এর পর্দা ফাঁস করে। তারাই প্রথম অপরাধীদের কাছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র পায়। সেগুলি জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) আমলাদের ইস্যু করা। এএটিএস দেখে, ভুয়ো নথির ভিত্তিতে সেনার নামে তিন হাজারেরও বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে এই মামলা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জম্মু-কাশ্মীরের তৎকালীন পিডিপি-বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। তদন্তের নামে অভিযুক্তদের সরকার আড়াল করার চেষ্টা করছে বলে সরব হয় বিভিন্ন মহল। ২০১৮-য় রাজ্যপালের শাসন জারি হওয়ার পর তৎকালীন রাজ্যপাল এন এন ভোহরা মামলাটি সিবিআই-এর হাতে দেন।
এখন অবশ্য অন্য সুর ধরেছে বিজেপি। শনিবারের সিবিআই তল্লাশিকে স্বাগত জানিয়েছে তারা। দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্রের কারবারীদের (arms license scam) বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে দল।
বিজেপির মুখপাত্র আলতাফ ঠাকুর বলেন, ‘এই লাইসেন্সগুলি আগের আমলে ইস্যু করা। সিবিআইয়ের উচিত এর একেবারে শিকড় পর্যন্ত যাওয়া। কারা এর সঙ্গে জড়িত, কাদের হাতে অস্ত্র গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ছাড়াও দেশের আর কোন প্রান্তে তারা রয়েছে, সব সামনে আসা দরকার।’
গত বছর মার্চ মাসে সিবিআই দুই আইএএস অফিসারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন কুমার রাজীব রঞ্জন ও ইতরাত রফিকি। কুপওয়ারার জেলাশাসক থাকাকালীন তাঁরা কয়েক হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করেন।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top