চার দশকে সবচেয়ে খারাপ হাল, অর্থনীতির সঙ্কোচন ৭.৩ শতাংশ

Indian-Economy-Contraction.jpg

Onlooker desk: করোনা অতিমারীর মধ্যে জানুয়ারি-মার্চ ত্রৈমাসিকে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) ১.৬ শতাংশ বাড়লেও অর্থনীতি ৭.৩ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছে বলে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্যে জানা গেল। ১৯৭৯-৮০-র পরে গত চার দশকে এই প্রথম গোটা অর্থবর্ষে সঙ্কুচিত হলো দেশের অর্থনীতি। ১৯৭৯-৮০তে জিডিপি ৫.২ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়েছিল। যদিও এ বার অর্থনীতি আরও বেশি সঙ্কোচনের আশঙ্কা ছিল।
২০২০-২১-এর ওই শেষ ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপির ৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। আর গোটা অর্থবর্ষের বৃদ্ধি ১১ বছরে সর্বনিম্ন — ৪ শতাংশ।
মিনিস্ট্রি অফ স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড প্রোগ্র্যাম ইমপ্লিমেন্টেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে — ২০১১-১২ র দামের নিরিখে ২০২০-২১ এর জিডিপি ১৩৫.১৩ ট্রিলিয়ন টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে যা ছিল ১৪৫.৬৯ ট্রিলিয়ন। ২০২০-২১ এ অর্থনীতির বৃদ্ধি হয়েছে -৭.৩ শতাংশ (অর্থাৎ সঙ্কোচন হয়েছে ৭.৩ শতাংশ), ২০১৯-২০ তে বৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশ। পাশাপাশি ২০২০-২১ এর শেষ ত্রৈমাসিকে তার আগের অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক।
২০১৯-২০ অর্থবর্ষের জিডিপি-অঙ্কে পৌঁছতে হলে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে অর্থনীতির ১০ থেকে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি দরকার। কিন্তু করোনার পরিস্থিতিতে বৃদ্ধির হার ডবল ডিজিটে পৌঁছনো বেশ কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সরকার কী ভাবে অতিমারী পরিস্থিতির মোকাবিলা করে, ভ্যাকসিনেশনের কেমন গতি হয়, সে সবের উপরে অনেকখানি নির্ভর করবে। তা ছাড়া প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মানুষ বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। তাই ছন্দ আসচে সময়ও একটু বেশি লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্ষেত্রভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ ও ফিন্যান্স, রিয়েল এস্টেট ইত্যাদিতে অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে উন্নতি হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষের প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে লাগাতার সঙ্কোচনের পর অক্টোবর-ডিসেম্বর কোয়ার্টারে অর্থনীতি সামান্য বৃদ্ধি পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top