আমেরিকা, ব্রাজিলের পর ভারতেও মোট কোভিড-মৃত্যু পেরোল ৪ লক্ষ

COVID-DETH.jpg

সৎকার চলছে কোভিডে মৃতদের দেহ — ফাইল চিত্র

Onlooker desk: কোভিডে মৃত্যুর বিচারে এক উদ্বেগজনক রেকর্ড তৈরি করল ভারত। আমেরিকা ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসাবে মোট মৃত্যু পেরোল ৪ লক্ষ। এর অর্ধেকই গত কয়েক মাসে, দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়ে। তবে দৈনিক মৃত্যু আগের চেয়ে অনেক কম।
বর্তমানে দেশে কোভিডে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩১২। এর মধ্যে শেষ ১ লক্ষ জন মারা গিয়েছেন গত ৩৯ দিনে। শুক্রবার গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৮৫৩ জন। সংক্রমণের সংখ্যাতেও মিলেছে স্বস্তি। বৃহস্পতিবারের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এ দিন ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংক্রামিত হয়েছেন ৪৬ হাজার ৬১৭ জন।
করোনামুক্তির সংখ্যা সংক্রামিতের তুলনায় বেশি হচ্ছে। গত ৫০ দিন ধরে লাগাতার এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। করোনামুক্তির জাতীয় হার ৯৭ শতাংশ পেরিয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এ কথা জানিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কেরালায় সংক্রামিত ১২ হাজার ৮৬৮ জন। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। তার পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র (৯,১৯৫) এবং তামিলনাড়ু (৪,৪৮১)। দিল্লিতে বৃহস্পতিবার নতুন করে ৯১ জনের শরীরে করোনার হদিস মিলেছে। পজিটিভিটি রেট ০.১২ শতাংশ।
এ দিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি আশার কথা শুনিয়েছেন। বিপুল জনসংখ্যার চাপ রয়েছে। তবু প্রতি লক্ষ মানুষে সংক্রমণ ও মৃত্যু মোটের উপর নিয়ন্ত্রণে থেকেছে। অনেক উন্নত দেশেই তা থাকেনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় চিকিৎসক দিবসের ভাষণে এ কথা জানান তিনি।
ভয়াবহ দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর দেশে করোনাগ্রাফ অনেকটা কমেছে। কিন্তু ১২টি রাজ্যে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়ান্টের খোঁজ মিলেছে। যা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মাসে ডেল্টা প্লাসকে ‘ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ন’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে সরকার।
বিশ্বজুড়ে ১২টি দেশে এই ভ্যারিয়ান্টের খোঁজ মিলেছে। আমেরিকায় প্রকোপ বাড়ছে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের। আগামী কয়েক সপ্তাহে তা-ই সবচেয়ে প্রকট হয়ে উঠবে। মার্কিন ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর অধিকর্তা রশেল ওয়ালেনস্কি এ কথা জানিয়েছেন।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ডেল্টা প্লাসকে এখনই ভ্যারিয়ান্ট অফ কনসার্ন বলতে রাজি নয়। হু-এর চিফ সায়েন্টিস্ট সৌম্যা স্বামীনাথন একটি সংবাদমাধ্যমে এ কথা জানান।
বিজ্ঞানী, গবেষকরা ডেল্টা, ডেল্টা প্লাসের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, তাদের টিকা ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের বিরুদ্ধে কার্যকর। এই টিকার একটি ডোজ নিলেই চলবে। বিবৃতি জারি করে এ কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, প্রথম ডোজ নেওয়ার ২৯ দিনের মধ্যে ডেল্টা খতমে উপযোগী হয়ে ওঠে গ্রহীতার শরীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top